মঙ্গলবার ওভালে মাঠকর্মীদের সঙ্গে তুমুল বচসায় জড়িয়ে পড়েছিলেন টিম ইন্ডিয়ার গুরু গম্ভীর। আবহাওয়া এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, পরিস্থিতি সামলাতে মাঠে নামতে হয় সীতাংশু কোটাক এবং অন্যান্য সহকারী কোচদের। এই সময় গম্ভীরকে রীতিমতো চিৎকার করে বলতে শোনা গিয়েছে, “আমরা কী করব সেটা আপনারা ঠিক করতে পারেন না।” গম্ভীরের পর এই ঘটনায় সরব হয়ে এ বার ইংরেজদের পাল্টা দিলেন ইরফান পাঠানও। ভারতের প্রাক্তন অলরাউন্ডারের প্রশ্ন, “ওরা কি এখনও আমাদের পরাধীন মনে করে?”
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে প্রথম অনুশীলন করতে আসে ভারতীয় দল। কিন্তু মাঠের ব্যবস্থা দেখে একেবারেই খুশি হতে পারেননি কোচ গম্ভীর। তিনি এগিয়ে যান মাঠকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে। আর তারপর আচমকাই বদলে যায় পরিস্থিতি। হঠাৎ পিচ কিউরেটর লি ফর্টিসের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন কোচ গম্ভীর। উত্তেজিত ভঙ্গিতে তাঁকে চিৎকার করে বলতে শোনা গিয়েছে, “আপনারা যা খুশি করে নিতে পারেন!”
পরে টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক সামনে এনেছেন আসল সত্যিটা। তিনি জানান, গম্ভীরকে আগে থেকেই জানানো হয়েছিল তিনি যেন পিচ থেকে অন্ততঃ ২.৫ মিটারের দূরত্ব বজায় রাখেন। অথচ দেখা যায়, ইংরেজদের কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম দিব্যি পিচের মাঝখানে দাঁড়িয়ে গল্প করছেন কিউরেটর ফর্টিসের সঙ্গে। এতেই চূড়ান্ত ক্ষিপ্ত হন গম্ভীর। আর এ বার আসল ঘটনাটি সামনে আসতেই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন ইরফান পাঠানও।
ওভালের মাঠকর্মীরা ইতিমধ্যেই হুমকি দিয়েছেন, তাঁরা ভারতীয় কোচের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাবেন। এই পরিস্থিতিতে সমাজ মাধ্যমে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ছোট পাঠান লিখেছেন, “ইংল্যান্ডের কোচ পিচের মাঝখানে গিয়ে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু ভারতের কোচ পারে না। আমরা কি এখনও ঔপনিবেশিক সময়ে রয়ে গিয়েছি?” এরই সঙ্গে যোগ করেছেন, “গম্ভীরকে খলনায়ক করে দেখানো হচ্ছে। ওই পিচ কিউরেটর চিরকালই বিদেশি কোচ এবং অধিনায়কের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। দেখে মনে হচ্ছে আমরা এখনও ১৯৪৭ -এর সময়েই দাঁড়িয়ে রয়েছি। এই দ্বিচারিতা মানতে পারছি না।”
দ্বিচারিতা মেনে নিতে পারছেন না টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাকও। পিচ কিউরেটর ফর্টিসের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে গম্ভীর এতটাই তেতে ওঠেন যে দ্রুত ছুটে আসেন সীতাংশু কোটাক সহ ভারতের সহকারী কোচেরা। তাঁরা কোনও মতে বুঝিয়ে সুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান গম্ভীরকে। এরপর আসল ঘটনা সামনে আনার পাশাপাশি কোটাক জানিয়েছেন, “এমন নয় যে গম্ভীর স্পাইক পরে ছিলেন। জগারই ছিল তাঁর পায়ে। তারপরেও এমন ঘটনা। আমি এমনটা আগে কখনওই দেখিনি।”
