সেনার হাতে খতম হয়েছে পহেলগাম হামলার তিন জঙ্গি, সংসদে এই নিয়ে বিবৃতি দেওয়ার আগেই তা নিয়ে নানা রিপোর্টে হইচই ফেলে দিয়েছিল দেশী বিদেশী নানা মিডিয়া। কিন্তু ঠিক কী কিভাবে জঙ্গিদের বাগে আনা হয়েছিল তার তথ্য হার মানাচ্ছে সিনেমার নিখুঁত চিত্রনাট্যকেও। সরকারি সূত্রের খবর, গোপন সুড়ঙ্গ প্লাবিত করে দেওয়ায় পাক মদতপুষ্ট তিন জঙ্গি শেষপর্যন্ত ধরা পড়ে যায় নিরাপত্তা বাহিনীর জালে। তাদের খতম করা হয় অপারেশন মহাদেব-এ।
তবে অপারেশন মহাদেব-এ খতম হওয়া জঙ্গিরা সত্যিই পহেলগাম হামলাকারীরা কি না তা জানতে একরাত জেগেই ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এক সুত্রের তথ্য উল্লেখ করে এই তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি। জানা যাচ্ছে সোমবার রাতে পহেলগাম কাণ্ডে অভিযুক্ত তিন জঙ্গির মৃত্যু নিশ্চিত করতে ফরেনসিক পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়া নিজেই নিজেই তদারকি করেন অমিত শাহ।
নিহতদের জঙ্গিদের ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলির খোল পরীক্ষা করে মিলিয়ে দেখা হয় যে সেগুলোই পহেলগামের ভয়াবহ হামলায় ব্যবহার করা হয়েছিল কি না। সেই পরীক্ষায় ৯৯ শতাংশেরও বেশি গুলির খোলের মিল পাওয়া যায়। প্রতিটি ধাপে সরাসরি যোগাযোগ রাখেন অমিত শাহ নিজে। রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যাচ্ছে ভোর ৫টায় বিজ্ঞানীদের সঙ্গে ভিডিও কলও করেন তিনি। পরীক্ষায় জানা যায়, সুলেমানদের ব্যবহৃত এম নাইন পিস্তল ও দুটি একে ৪৭ সর্বশেষ ব্যবহার করা হয়েছিল পহেলগামের হামলার দিনই।
পহেলগামের ভয়াবহ হামলার পর সদ্য নিহত হওয়া জঙ্গিরা তিন মাস গা-ঢাকা দিয়ে ছিল, পালাতে পারেনি। কারণ ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী তাদের পালিয়ে যেতে না দেওয়ার জন্য কৌশল নেয়। সীমান্ত পেরোতে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি গোপন রুট ব্যবহার করত জঙ্গিরা। সেই পথেই ছিল কয়েকটি গোপন সুড়ঙ্গ। ভারতীয় বাহিনী সেই সুড়ঙ্গগুলো খুঁড়ে প্লাবিত করে দেয়। ফলে জঙ্গিরা পালাতে না পেরে বাধ্য হয় কাশ্মীর উপত্যকায় গা ঢাকা দিতে। আর তারপরেই তথ্যভিত্তিক অভিযানে তাদের খতম করা হয়।
পহেলগাম হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাশ্মীরে উড়ে গিয়ে অমিত শাহ নির্দেশ দেন কোনওভাবেই যেন জঙ্গিরা পাকিস্তানে ফিরতে না পারে। যেখান থেকে ঢুকেছিল, সেখানেই শেষ করার ভাবনাটা সম্ভবত কষে ফেলা হয়েছিল তখনই।
Leave a comment
Leave a comment
