বিশ্বকাপের আগে স্ট্যাচু অব লিবার্টির দেশে অব্যাহত মেসি ম্যাজিক। অলস্টার ম্যাচে না খেলার জন্য মেজর লিগ সকারে এক ম্যাচের জন্য নির্বাসিত করা হয়েছিল লিওনেল মেসিকে। নামতে পারেননি সিনসিনাটির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে। সেই নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পর মাঠময় ফের নিজের বাঁ পায়ের জাদু ছড়ালেন এল এম টেন। আর ফোর্ট লডারডেলে অ্যাটলাসের বিরুদ্ধে লিগস কাপের গ্রুপ পর্বের উদ্বোধনী ম্যাচে তাঁর দল ইন্টার মায়ামি জিতল ২-১ ব্যবধানে।
এ দিনই ইন্টার মায়ামির হয়ে অভিষেক ঘটেছে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার রদ্রিগো দি পলের। গত কাতার বিশ্বকাপে যিনি মেসির নেতৃত্বেই স্বাদ পেয়েছিলেন বিশ্বজয়ের। আর এ বার মায়ামির হয়ে অভিষেকেই আরও একবার নিজের জাতীয় দলের অধিনায়কের মাহাত্ম্যের সাক্ষী থাকলেন। মায়ামির দুটি গোলই এ দিন এসেছে মেসির অ্যাসিস্ট থেকে। সেই সুবাদেই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর গুরুত্বপূর্ণ ৩ পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছে তারা।
৫৭ মিনিটে মেসির বাড়ানো বল জালে জড়িয়ে দিয়ে ইন্টার মায়ামিকে এগিয়ে দেন তেলাসকো সেগোভিয়া। এরপর ৮০ মিনিট নাগাদ যদিও রিভাল্ডো রিভাল্ডো লোজানো সমতায় ফিরিয়েছিলেন অ্যাটলাসকে। কিন্তু ম্যাচের একেবারে অন্তিম লগ্নে ফের মেসি ম্যাজিক। অতিরিক্ত সময়ে (৯৬ মিনিটে) মেসির প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে দুর্দান্তভাবে কাটিয়ে পাস দিয়েছিলেন মার্সেলো ভিগান্টকে। সেখান থেকে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি ভিগান্ট।
যদিও শেষ গোলটিকে প্রথমে অফসাইড ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে পরে ভার -এর সাহায্য নেওয়া হলে তা বৈধ ঘোষণা করা হয়। এই জয়ের পর স্বভাবতই আরও একটু বেড়ে যাচ্ছে এল এম টেন নামক উন্মাদনার জোয়ার। আগামী বছর আমেরিকা, মেক্সিকো এবং কানাডায় বসতে চলেছে ফিফা বিশ্বকাপের আসর। তার আগে খাস মার্কিন মুলুকেই লিওর এহেন ফর্ম টানা দুবার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে আলবিসেলেস্তেদের। অন্যদিকে মেসি নিজেও উচ্ছ্বসিত দলকে জয় এনে দিতে পেরে। তবে তিনি আরও বেশি উচ্ছ্বসিত নির্বাসন কাটিয়ে ফিরে আসতে পারায়।
অ্যাটলাসের বিরুদ্ধে জয়ের পর মেসি বলেন, “আমি যত বেশি ম্যাচ খেলি, তত বেশি ছন্দ ফিরে পাই। নিজেকে তরতাজা বলে মনে হয়।” লিওর এই মন্তব্য নতুন করে আশার সঞ্চার করছে অনুরাগীদের মনে। বিশ্বকাপের বাকি আর মাত্র এক বছর। আর প্রতিযোগিতাটি হবে আমেরিকাতেই। ফলে, মেসি আরও একবার আর্জেন্তিনার তরী পার করাতে পারেন কি না শুরু হয়েছে সেই চর্চাই।
