বাড়ির গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলেন প্রাক্তন সাংসদ এবং জনতা দল (সেকুলার)-এর নেতা প্রজ্বল রেভান্না। তাঁকে শুক্রবার দোষী সাব্যস্ত করে বেঙ্গালুরুর একটি বিশেষ আদালত। আদালতের রায় অনুযায়ী, রেভান্না গৃহকর্মীকে ২০২১ সাল থেকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন এবং সেই ঘটনার ভিডিয়ো ফাঁস করার হুমকি দেন। শুধু তাই নয় , তাঁকে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করেন। এদিন রায় দেওয়ার পর শনিবার এই মামলার শাস্তি ঘোষণা করবে আদালত।
ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়ার নাতি প্রজ্বল রেভান্না। গত বছরের ৩১ মে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। বিচার চলাকালীন আদালত মোট ২৬ জন সাক্ষীর বক্তব্য গ্রহণ করে। রেভান্নাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, গোপন ভিডিয়ো ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, ওয়্যারিজম বা গোপনে নজরদারি করা, এবং আইটি আইনের অধীনে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ধারায় অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
২০২৪ সালে আরও তিনটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। ২,০০০-রও বেশি অশ্লীল ভিডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। একটি মামলায় ৪৪ বছর বয়সি এক প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্যা অভিযোগ করেন, রেভান্না তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। আরেকটি মামলায় ম্যাঙ্গালুরু জেলার ৬০ বছর বয়সি এক গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে রেভান্নার বিরুদ্ধে।
এছাড়া গত ১২ জুন বেঙ্গালুরুতে আরও একটি অভিযোগ দায়ের হয়, যেখানে একজন মহিলা অভিযোগ করেন, রেভান্না তাঁকে ভিডিও কলে যৌন লাঞ্ছনা করেছেন। এই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে যৌন লাঞ্ছনা, অনুসরণ করা, ভয় দেখানো এবং আইটি আইনে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে রেভান্না কর্ণাটকের হাসান লোকসভা কেন্দ্র থেকে লড়াই করেন তিনি। এই প্রজ্বল রেভান্নাকেই ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে সরাসরি সমর্থন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তখন মোদি বলেছিলেন, “প্রজ্বল রেভান্নাকে একটি ভোট মানে মোদিকে শক্তিশালী করা।” যদিও তিনি পরাজিত হন। তাঁর বিরুদ্ধে যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে। সেই কারণে জনতা দল (সেকুলার) তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে।
এবার রেভান্নাকে মোদির সমর্থন নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এক্স হ্যান্ডেলে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কীভাবে একজন ধর্ষণে অভিযুক্তকে রাজনৈতিক স্বীকৃতি দিলেন প্রধানমন্ত্রী? আজ দেশের প্রতিটি নারীর প্রশ্ন করা উচিত, কেন তিনি একজন অপরাধীর পাশে দাঁড়ালেন? এই ঘটনায় শুধু প্রজ্বল নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও দায় এড়াতে পারেন না বলে কটাক্ষ করে তৃণমূল নেতৃত্ব।
