২০০৮ সালের মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলার তদন্ত চলাকালীন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন ওই মামলার তদন্তে যুক্ত প্রাক্তন মহারাষ্ট্র এটিএস অফিসার মহবুব মুজাওয়ার। এক সংবাদ চ্যানেলকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তাঁকে এই নির্দেশ দেন তৎকালীন তদন্তকারী আধিকারিক পরমবীর সিং।
এই মন্তব্য সামনে এল বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের বিশেষ আদালতে মামলার সাত অভিযুক্ত, যাঁদের মধ্যে ছিলেন বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রসাদ পুরোহিত সম্পূর্ণভাবে খালাস পাওয়ার একদিন পরেই। আদালত জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে “বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য” কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মুজাওয়ারের দাবি, বিস্ফোরণ তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ‘ভুল পথে’ চালনা করা হচ্ছিল। তাঁর কথায়, তদন্তকে হিন্দু সন্ত্রাসের রূপ দিতে ভাগবতজিকে মামলায় জড়ানোর চেষ্টা চলছিল। ‘আমি তাতে সায় দিইনি বলেই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের হয়েছিল। পরে সেই অভিযোগ থেকে আমি মুক্তি পাই।’
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর, মালেগাঁও শহরের এক ব্যস্ত বাজার এলাকায় মোটরবাইকে বিস্ফোরক রেখে ঘটানো বোমা বিস্ফোরণে ছয় জনের মৃত্যু হয়। প্রথমে এটিএস তদন্ত শুরু করলেও পরে দায়িত্ব নেয় কেন্দ্রীয় সংস্থা এনআইএ। বিচারপর্ব শুরু হয় ২০১৮ সালে, শেষ হয় ২০২৫ সালের এপ্রিলে। ৩২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৭ জন সাক্ষ্য থেকে সরে আসেন। এই ইস্যুতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস বলেন, ২০০৮ সালের ষড়যন্ত্র আজ স্পষ্ট। রাজনৈতিক স্বার্থে ‘হিন্দু টেরর’ শব্দ তৈরি করে গোটা জাতিকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল।
এই বিস্ফোরক মন্তব্যে ফের একবার তীব্র বিতর্ক দানা বাঁধছে মালেগাঁও কাণ্ড ও তার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ঘিরে।
