গণতন্ত্রের যেমন চারটি স্তম্ভ, তেমনি নির্ভুল নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রেও রয়েছে চার মূল কারিগর। বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও, বুথ লেভেল সুপারভাইজার, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার– এই চার পদাধিকারীর উপর ভিত্তি করে স্বচ্ছ, নির্ভুল ও নিরপেক্ষ ভোটার তালিকা তৈরির কাজ সম্পন্ন করে নির্বাচন কমিশন। আর এই ভোটার তালিকার উপর ভিত্তি করে দেশবাসী ভোটাধিকার যেমন প্রয়োগ করার সুযোগ পান তেমনি এই ভোটার তালিকার মাধ্যমেই নির্বাচন প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে দেশের সরকার গঠিত হয়। তাই এই ভোটার তালিকা তৈরির মূল কারিগর যাঁরা তাঁদের দ্বিগুণ হারে ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। প্রাথমিকভাবে বিহারে যাঁরা ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের কাজে যুক্ত রয়েছেন তাঁদের জন্য এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত করেছে কমিশন। এবার গোটা দেশেই একই হারে বিএলও এবং বিএলও সুপারভাইজার, ইআরও এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইআরও দের ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর করল কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বি এল ও হিসেবে যারা নিযুক্ত হয়েছেন তাদের নির্বাচনী কাজের জন্য বার্ষিক ৬ হাজার টাকা ভাতা বাড়িয়ে করা হলো ১২ হাজার টাকা। যেহেতু বিএলও-রা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন এর জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করার কাজে যুক্ত থাকবেন সেজন্য বাড়তি ২ হাজার টাকা ইনসেনটিভ হিসেবে তাঁদেরকে দেওয়া হবে বলেও সিদ্ধান্ত কমিশনের। অর্থাৎ এসআইআর( SIR) প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত বুথ লেভেল অফিসাররা বার্ষিক চোদ্দ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। ২০১৫ সালের পর এই প্রথম বিএলও-দের ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন।
২০১৫ সালে বিএলও সুপারভাইজারদের বার্ষিক ভাতা ১২ হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছিল, এবার তা বাড়িয়ে ১৮ হাজার টাকা করল নির্বাচন কমিশন।
একই সঙ্গে এবার থেকেই প্রথম ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা ইআরও এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা এইআরও-দের নির্বাচনী কাজের জন্য বার্ষিক ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ২০২৫ সাল থেকেই অ্যাসিস্ট্যান্ট ইআরও-দের বার্ষিক ২০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে এবং ইআরও-দের ২৫ হাজার টাকা বার্ষিক ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
প্রসঙ্গত, সূত্রের খবর, বিহারের পর চলতি মাসেই দেশের বাকি সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে নির্বাচন কমিশন। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধিতা শুরু হয়েছে। এমনকি জাতীয় রাজনীতিতেও এসআইআর-কে কাজে লাগিয়ে সংসদ থেকে রাজনীতির রণাঙ্গনে কেন্দ্রের শাসক দলকে কোণঠাসা করতে জোট বেধেছে বিরোধীপক্ষ। সেই পরিস্থিতিতে নির্ভুল স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভোটার তালিকা তৈরিতে এই চার স্তম্ভকে উৎসাহ দিতে এবং দেশজুড়ে এসআইআর প্রক্রিয়া, সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ভাতা বৃদ্ধির এই নয়া সিদ্ধান্ত কার্যকরে উদ্যোগী হয়েছে নির্বাচন কমিশন।
