হাতে অ্যাটমবোমা যদি থেকেই থাকে তাহলে ফাটিয়ে দিন ! তবে তার আগে নিশ্চিত করে নেবেন আপনার যেন কোন ক্ষতি না হয়। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং।
শুক্রবার রাহুল দাবি করেছিলেন, বিজেপির হয়ে নির্বাচন কমিশন কিভাবে ভোট চুরি করছে,তার দলের হাতে সেই প্রমাণের অ্যাটম বোমা আছে। নির্বাচন কমিশন রাহুলের অভিযোগকে ভুয়ো এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়ে দেয়।
শনিবার দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে রাহুলের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন রাজনাথ। তিনি বলেন, অ্যাটম বোমা ফাটানোর আগে রাহুল যেন নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করে নেন। জাতীয় নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং কমিশনের সততা প্রশ্নাতীত। বিহারের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন যাতে সুষ্ঠ ও অবাধে হয় তা নিশ্চিত করতে নিরলস প্রচেষ্টা চালাচ্ছে কমিশন। বিরোধী দলনেতার মুখে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন ভিত্তিহীন মন্তব্য শোভা পায় না।
তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন বিহারকে দুটো রাস্তার মুখে এনে দাঁড় করিয়েছে। একটি রাস্তা এনডিএর নেতৃত্বে রাজ্যকে আরও উন্নয়নের লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আরেকটি রাস্তা ইন্ডিয়া ব্লকের নেতৃত্বে বিহারকে পুরনো আমলের জাতপাতের রাজনীতি ও আইনশৃঙ্খলা-হীনতার দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।
রাজনাথ রাহুলকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, আপনার নিজের দলের হাতে রক্ত লেগে রয়েছে। ১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থা জারি করে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল কংগ্রেস।
পাশাপাশি নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে গত ২০ বছরে বিহারের আমূল ভোল বদলে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন রাজনাথ। তিনি বলেছেন, নীতীশের আমলে বিহার আর পিছিয়ে পড়া রাজ্য নেই। এমনকি, ‘দি ইকনমিস্ট’-এর মত বিশ্ববন্দিত পত্রিকা বিহারের ঘুরে দাঁড়ানো কে স্বীকৃতি দিয়েছে। ১১ বছর আগে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর রাজ্যের উন্নয়নের গতি আরও দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউপিএ আমলের ১০ বছরে যেখানে বিহারকে মাত্র ২লক্ষ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল, সেখানে এনডিএ আমলে বিহারকে ৯লক্ষ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় সাহায্য প্রদান করা হয়েছে। বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে বিহার সহ পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে সে কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
রাজনাথের দাবি, স্বাধীনতার সময় রাজ্যের মাথাপিছু আয় জাতীয় গড়ের ৮০ শতাংশ ছিল, যা পরবর্তীকালে নামতে নামতে ৩০ শতাংশে এসে দাঁড়ায়। এনডিএ আমলে বর্তমানে তা ফের বেড়ে ২০০ শতাংশে পৌঁছে গেছে।পাশাপাশি মৌর্য আমলে মগধের প্রতিপত্তি, গৌতম বুদ্ধ ও মহাবীর জৈনর কথা উল্লেখ করে বিহারের গৌরবশালী ঐতিহ্যের কথাও স্মরণ করেন তিনি।
