মঙ্গলবার থেকে শুরু হল সুপ্রিম কোর্টে ডিএ সংক্রান্ত মামলার চূড়ান্ত পর্বের শুনানি। সোমবার বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি পি কে মিশ্রর বেঞ্চ জানিয়েছিলেন, কোন পক্ষকেই আর কোনও বাড়তি সময় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে প্রতিদিন শুনানি করে দ্রুত এই মামলার নিষ্পত্তি করা হবে। সেই মতোই মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি শুরু হয়। দিনভর এই মামলারই শুনানি হয় ১২ নম্বর কোর্টে। বুধবার ফের মামলার শুনানি হবে এই বেঞ্চে।
বকেয়া মহার্ঘ্যভাতা মিটিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মূল দাবি ছিল, কেন্দ্রিয় হারে রাজ্যকে ডিএ দিতে হবে। এই দাবির যৌক্তিকতা নিয়েই মঙ্গলবার দিনভর সওয়াল জবাব হয়। যদিও ডিএ পাওয়ার অধিকার মৌলিক অধিকার নয়, এই বিষয়ে আদালত এবং বাদী-বিবাদী, সমস্ত পক্ষই একমত হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় হারে রাজ্য সরকার ও ডিএ দিতে বাধ্য কিনা, সেই প্রশ্নের মীমাংসা এখনো চলছে।
সরকারি কর্মচারীদের তরফে আইনজীবী গোপাল সুব্রহ্মনিয়ম বলেন, মহার্ঘ ভাতা পাওয়া মৌলিক অধিকার না হলেও আইনি অধিকার। রাজ্য সরকার তার প্রতিশ্রুতি থেকে কর্মচারীদের বঞ্চিত করতে পারে না। পাল্টা সরকারের তরফ থেকে আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মাইনে থেকে শুরু করে মহার্ঘ ভাতা বা পেনশন, সবকিছুই সাংবিধানিকভাবে রাজ্যের এক্তিয়ারে পড়ে। দেশে আরো ১৩টি রাজ্য আছে, যারা নিজেদের মতো করে মহার্ঘ ভাতার পরিমাণ নির্ধারণ করে। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দিতে কোন রাজ্যকে বাধ্য করা যায় না।
পাশাপাশি রাজ্য সরকার জানায়, এই মুহূর্তে মোট বকেয়া মহার্ঘ ভাতার পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি। সমস্ত টাকা দিতে গেলে রাজ্য দেউলিয়া হয়ে যাবে।
যদিও সর্বোচ্চ আদালত শুনানির শেষে ফের প্রশ্ন তুলেছে, গত ১৬ মে শুনানিতে অবিলম্বে ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ এখনও পালন করা হয়নি কেন ? রাজ্য সরকারের পক্ষে আইনজীবীরা জানান, সেই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। খুব দ্রুত বকেয়া ২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দিয়ে দেওয়া হবে কর্মচারীদের। বুধবার ফের এই মামলার শুনানি হবে সুপ্রিম কোর্টে।
