নীলাঞ্জন দাশগুপ্ত
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে ভোটার তালিকা পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়ায় বিজেপি একতরফা সুবিধা নিচ্ছে, এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের ভার্চুয়াল বৈঠকে দলীয় সাংসদ, বিধায়ক, জেলা নেতৃত্ব ও জনপ্রতিনিধিদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কমিশনের কাজকর্ম বিজেপির সুবিধা করে দিচ্ছে, এটা আর বোঝার বাকি নেই। বিজেপি আগে থেকেই জানে কাদের নাম বাদ যাবে! এটা কি ম্যাজিক, না কমিশনের ভেতরের খেলা?এই বক্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেছে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে যে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে, তা একে একে ভাষ্য নয়, এ যেন রাজনৈতিক অঘোষিত যুদ্ধ।
ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিজেপি নেতৃত্ব যে আগে থেকেই বিভিন্ন তথ্য জানছে, তা নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করেন অভিষেক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তালিকায় কাদের নাম বাদ পড়বে, কে হাটে হাঁড়ি ভাঙছে? কোনও সরকারি তথ্য প্রকাশ হয়নি, অথচ ওরা কীভাবে জানে? এ কি পূর্ব-পরিকল্পিত বাদ দেওয়ার চক্রান্ত? তাঁর এই তির্যক মন্তব্যের নিশানা ছিল নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকে ঘিরে। বৈঠকে অভিষেক নির্দেশ দেন, প্রতিটি জেলা ও ব্লকে দলীয় কর্মীরা যেন চোখ-কান খোলা রেখে ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষণ করেন, যাতে একটিও নাম অন্যায়ভাবে বাদ না পড়ে।
এই ভার্চুয়াল বৈঠক ছিল শুধুমাত্র আলোচনা নয়, বরং রাজনৈতিক সতর্কবার্তা ও সংগঠনিক যুদ্ধের প্রস্তুতি। অভিষেকের দাবি অনুযায়ী, বিজেপির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ছায়া আঁতাত বাংলার গণতন্ত্রের শিকড়ে কুঠারাঘাত করছে। তাই এখন প্রয়োজন জনসংযোগ বাড়ানো, তথ্যভিত্তিক প্রতিবাদ গড়ে তোলা এবং রাজপথে নামার প্রস্তুতি। তাঁর কণ্ঠে ঝরে পড়ল হুঁশিয়ারি, ভোট শুধু ব্যালটের লড়াই নয়, এখন গণতন্ত্র বাঁচানোর সংগ্রাম।
