দিল্লিতে ইডি-র সদর দপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজিরা দিলেন অনিল আম্বানি। রিলায়েন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে ১৭,০০০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ঋণ জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগের তদন্ত করছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।তদন্তকারী সংস্থা গত ১ আগস্ট অনিল আম্বানিকে তলব করে। এর আগে ইডি রিলায়েন্স গ্রুপের একাধিক কোম্পানিতে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন নথিপত্র ও কম্পিউটার বাজেয়াপ্ত করেছিল।
সূত্রের খবর, ইডি একাধিক ব্যাঙ্ককে চিঠি দিয়ে আম্বানির কোম্পানিগুলিকে দেওয়া ঋণের তথ্য চেয়েছে। মোট ১৩টি পাবলিক ও প্রাইভেট ব্যাঙ্ককে চিঠি দিয়ে রিলায়েন্স হাউজিং ফাইন্যান্স, রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস এবং রিলায়েন্স কমার্শিয়াল ফাইন্যান্সকে দেওয়া ঋণ মঞ্জুরের শর্ত সম্পর্কে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। এসবিআই, অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক, আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক, ইউকো ব্যাঙ্ক ও পাঞ্জাব অ্যান্ড সিন্ধ ব্যাঙ্কের নাম রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে ইডি ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ইয়েস ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকার অবৈধ ঋণ স্থানান্তরের তথ্য পায়। পরে দেখা যায় রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস লিমিটেডও ১৪,০০০ কোটির বেশি ঋণ জালিয়াতিতে যুক্ত।
এই মামলার সূত্র ধরে ইডি ২৪ জুলাই থেকে দিল্লি ও মুম্বাইতে একযোগে তল্লাশি শুরু করে। তল্লাশি চলে তিনদিন ধরে। ৫০টি কোম্পানির বিভিন্ন অফিসে তল্লাশির পাশাপাশি ২৫ জন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি, যার মধ্যে অনিল আম্বানির কোম্পানিগুলোর একাধিক উচ্চপদস্থ কর্তা রয়েছেন।
গত সপ্তাহে এই মামলায় প্রথম গ্রেপ্তারি হয়। পার্থসারথি বিসওয়াল, বিসওয়াল ট্রেডলিংক প্রাইভেট লিমিটেড-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টরকে ১ আগস্ট গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে রিলায়েন্স পাওয়ারের পক্ষে ৬৮.২ কোটি টাকার জাল জামানত জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ‘বেআইনি অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনে’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁকে।
অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে ‘লুক আউট সার্কুলার’-ও জারি করা হয়েছিল ইডির তরফে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নয়াদিল্লির সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির সদর দপ্তরে হাজিরা দিয়েছেন অনিল আম্বানি।
