বিশ্বের অন্যতম অপরিচ্ছন্ন মানুষ, ৬০ বছর ধরে স্নান করেননি! স্নান করতেই মৃত্যু হয়েছিল তাঁর। একেবারে অবাক করা ব্যাপার!
ইরানের এক সন্ন্যাসী আমু হাজিকে বিশ্বের ‘সবচেয়ে নোংরা মানুষ’ বলা হত। কারণ? তিনি টানা ৬০ বছর ধরে একবারও স্নান করেননি! ২০২২ সালে ৯৪ বছর বয়সে মারা যান এই ব্যক্তি। আশ্চর্যের বিষয় হল, মৃত্যুর কয়েক মাস আগে গ্রামের মানুষজন তাঁকে স্নান করাতে রাজি করান, আর তার কিছুদিন পরেই আমু হাজির মৃত্যু হয়!
জানা গেছে, তিনি তরুণ বয়সে এক মানসিক আঘাতের শিকার হন। তারপর থেকেই তিনি স্নান করা এড়িয়ে চলতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, সাবান ও জল দিয়ে স্নান করলে শরীরে রোগ ঢুকে পড়ে। তাই তিনি নিজেকে মাটি, ছাই ও ধোঁয়ায় ঢেকে রাখতেন। একা থাকতেন একটি ছোট কুঁড়েঘরে।
আমু হাজির জীবনযাপন ছিল অস্বাভাবিক। তিনি রাস্তায় মৃত পশুর মাংস খেতেন, পশুর গোবর দিয়ে তৈরি পাইপে ধোঁয়া টানতেন এবং অনেক সময় একসঙ্গে কয়েকটি সিগারেট নিয়ে ধূমপান করতেন। এমনকি, তাঁর চুল আগুনে পুড়িয়ে কাটা হত এবং ঠান্ডা থেকে বাঁচতে যুদ্ধের হেলমেট পরতেন! তার শরীর ছিল ধুলো, পুঁজ আর ছাইয়ে ভর্তি। তিনি কারো দেওয়া জল, খাবার কিংবা ওষুধ কিছুই গ্রহণ করতেন না। তিনি চাইতেন না কেউ তার জীবনে হস্তক্ষেপ করুক।
তবে সবচেয়ে চমকে দেওয়ার মতো ব্যাপার হল, এত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেও তিনি বেশিরভাগ সময় সুস্থই ছিলেন। ইরানের এক চিকিৎসক তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন এবং জানান, তার শরীরে কেবলমাত্র ‘ট্রাইকিনোসিস’ নামের এক ধরনের পরজীবী ছিল, যা সাধারণত কাঁচা বা আধা সিদ্ধ মাংস খেলে হয়। এছাড়া তাঁর শরীরে আর কোনও বড় সমস্যা ছিল না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় স্নান না করলে শরীরের ত্বকে তেল, ঘাম, মৃত কোষ জমে ত্বকের ছিদ্র বন্ধ হয়ে যায়। এতে ব্রণ, চুলকানি, সংক্রমণ ও ত্বকের নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। ত্বকের প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায় এবং তা একজিমা, সোরিয়াসিস কিংবা ডার্মাটাইটিসের কারণ হতে পারে।
আমু হাজির জীবন যেমন অদ্ভুত, তেমনই তার মৃত্যু আরও বিস্ময়কর। জীবনের শেষদিকে তাঁকে একবার স্নান করানো হয় আর ঠিক তার পরেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কখনও কখনও বাস্তব জীবন কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি অদ্ভুত হতে পারে! এ যেন তারই প্রমাণ।
