দিনকয়েক ধরেই হুমকি দিচ্ছিলেন, এবার ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক চাপিয়েই দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার রাশিয়ার তেল কেনার কারণে ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক আরোপ করার এক্সিকিউটিভ অর্ডারে সই করেছেন তিনি। অর্থাৎ এর ফলে আমেরিকার বন্ধু দেশ বলে পরিচিত ভারতের উপর মোট শুল্কের পরিমাণ (কিছু ব্যতিক্রম বাদে) দাঁড়াল ৫০%। প্রাথমিক শুল্ক আগামী ৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে, এবং অতিরিক্ত শুল্ক ২১ দিন পর থেকে প্রযোজ্য হবে।
ট্রাম্প তার এগজিকিউটিভ অর্ডারে যা বলেছেন তার বাংলা করলে দাঁড়ায়, “এগজিকিউটিভ অর্ডার ১৪০৬৬-এ বলা জাতীয় জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা প্রয়োজন, কারণ তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাশিয়ার তেল আমদানি করছে। আমার বিবেচনায়, এই শুল্ক আরোপ জাতীয় জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় আরও কার্যকর হবে।”
তবে ভারতীয় পণ্যের উপর উচ্চ হারে শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্তকে মোটেই ভালো চোখে দেখছেন না তাঁরই দলের অনেকে। আগেই ট্রাম্পের দলেরই নেত্রী নিকি হ্যালি কিছুটা হুঁশিয়ারির সুরেই বলেছেন, একই ইস্যুতে প্রতিপক্ষ চীনকে যখন ছাড় দেওয়া হচ্ছে, তখন বন্ধু দেশ ভারতের সঙ্গে এভাবে সম্পর্ক নষ্ট করাটা মেনে নেওয়া যায় না।
যদিও দিল্লি আগে থেকেই ট্রাম্পের এই দ্বিচারিতার কড়া সমালোচনা করেছে। দিল্লি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমালোচনা করে বলেছে, এই সিদ্ধান্ত “অযৌক্তিক ও অন্যায্য”। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, ভারতের দিকে আঙুল তোলা হলেও কোনও বাধ্যবাধকতা ছাড়াই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে ভারত ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সমালোচনা করে দু’দেশের অর্থনীতিকেই মৃত বলে দেগে দিয়েছিলেন ট্রাম্প।যদিও দিল্লি জানিয়ে দিয়েছে যে, এই মুহূর্তে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হল ভারত। তবে এত কিছুর পরেও এই শুল্ক বৃদ্ধি ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কতটা প্রভাবিত করে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
Leave a comment
Leave a comment
