জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে, তিন বিধাতা নিয়ে- একসময় এই প্রবাদ অনেকটাই প্রতিষ্ঠিত ছিল সমাজে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ধারণা বদলাচ্ছে। এই তিন বিধাতার তালিকা থেকে হয়তো বাদ যেতে পারে ‘বিয়ে’।
আজকের প্রজন্মের অনেকেই বিয়ে নিয়ে আগ্রহ হারাচ্ছেন। অনেকে বিয়ে করলেও সন্তান নেওয়া বা পরিবার গঠনের বিষয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছেন। এর ফলে, ধীরে ধীরে সমাজে বিয়ের গুরুত্ব যেন কমে আসছে।
সম্প্রতি দৃষ্টি আইএএস কোচিং ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বিকাশ দিব্যকীর্তি এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিয়ের প্রথা আস্তে আস্তে লুপ্ত হওয়ার দিকে এগোচ্ছে।’ তাঁর মতে, যেমন করে একটি সামাজিক রীতি তৈরি হতে কয়েক শতাব্দী সময় লাগে, তেমন করেই তা মুছে যেতে সময় লাগে পাঁচশো থেকে এক হাজার বছর। এবং এই মুছে যাওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।
৫ অগস্ট , দৃষ্টি আইএএস-এর অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট হওয়া এক ভিডিয়োতে বিকাশ দিব্যকীর্তি বলেন,
‘আমার ধারণা অনুযায়ী, আগামী একশো থেকে দুশো বছরের মধ্যে ভারতের বড় শহরগুলিতে বিয়ে করা এবং না করা মানুষদের সংখ্যা একই হয়ে যাবে। পাঁচশো বছর পর বিয়ে করা মানুষরা সংখ্যালঘু হয়ে যাবে। আর এক হাজার বছর পর, যদি কানপুরে কেউ বিয়ে করে, সেটাই হবে খবর।’
তিনি আরও বলেন, সমাজতত্ত্ব অনুযায়ী, যে কোনও সামাজিক ব্যবস্থা তখনই গড়ে ওঠে, যখন তার প্রয়োজন দেখা দেয়। আর যখন সেই প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়, তখন সেই ব্যবস্থা আপনা আপনিই বিলুপ্ত হয়ে যায়। ঠিক সেই ভাবেই, বিয়ের প্রথাও গড়ে উঠেছিল সমাজের একটি নির্দিষ্ট প্রয়োজনে, যা এখন আর অতটা জরুরি বলে মনে করছে না নতুন প্রজন্ম।
এই মন্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, সময়ের সঙ্গে সামাজিক রীতিনীতির পরিবর্তন অস্বাভাবিক নয়। তবে এরকম মন্তব্য সমাজে নতুন ভাবনার সূচনা ঘটাতে পারে।
