নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির শাসনকালেও কানাডায় খালিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গিদের কার্যকলাপ অব্যাহত রয়েছে। খালিস্তানি স্বাধীনতাকামী হরদীপ সিং নিজ্জরের সমর্থকরা কানাডার সারে তে একটি ‘দূতাবাস’ খুলেছে বলে খবর। খালিস্তানের সমর্থকরা এর নাম দিয়েছে ‘রিপাবলিক অফ খালিস্তান’।
এই দূতাবাসটি ‘গুরুনানক শিখ গুরুদোয়রা’-র কমিউনিটি সেন্টারের একটি অংশে নির্মিত হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এই নবগঠিত ভবনের উপর কড়া নজর রাখছে কারণ এই দূতাবাস ভারতে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন শিখ ফর জাস্টিস (SFJ) কর্তৃক ঘোষিত শিখ গণভোটের আগেই খোলা হল।
এই প্রতীকী ‘দূতাবাস’ নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী হরদীপ সিং নিজ্জরকে প্রকাশ্যে সমর্থন করছে বলে জানা গিয়েছে। খালিস্তান আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত এই ঘটনাবলী স্থানীয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে কানাডার ভারতীয় হাইকমিশনও।
এর আগে, কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর শাসনকালে, খালিস্তানিরা কানাডায় ভারতবিরোধী কার্যকলাপ চালাচ্ছিল। এর মধ্যে ছিল বিতর্কিত কুচকাওয়াজ, মন্দিরে আক্রমণ, ভারতীয় পতাকার অবমাননার মতো স্পর্শকাতর বিষয়। খালিস্তানি সেই প্রতীকী দূতাবাসের বেশ কিছু ছবি সামনে এসেছে। সেগুলিতে দেখা যাচ্ছে যে খালিস্তানিরা গুরুদ্বারার প্রবেশপথের ঠিক পাশে ‘রিপাবলিক অফ খালিস্তান’ লেখা একটি বোর্ড লাগিয়েছে।
শিখস ফর জাস্টিস নামে সংগঠনকে নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার। ২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় সরকার এই সংগঠনের উপর নিষেধাজ্ঞা ৫ বছরের জন্য বাড়িয়ে দিয়েছিল। শিখস ফর জাস্টিস পাঞ্জাবকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করে পৃথক খালিস্তান রাষ্ট্র চায়। সংগঠনটি ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। শিখস ফর জাস্টিস এর প্রধান গুরপতবন্ত সিং পান্নু। পান্নু দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার কথা বলে আসছেন।
উল্লেখ্য, জনপ্রিয় খালিস্তানি নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর ২০২৩ সালের ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের সারে শহরে নিহত হন। ৪৫ বছর বয়সি নিজ্জর কানাডায় শিখস ফর জাস্টিসের তৎকালীন প্রধান ছিলেন। ২ বছর আগে ১৮ জুন হরদীপ সিং নিজ্জর গুরু নানক শিখ গুরুদুয়ারার পার্কিং লটে তার পিকআপ ট্রাক থেকে নামছিলেন। ঠিক তখনই দুজন মুখোশ পরা ব্যক্তি এসে হরদীপের ওপর হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত নিজ্জর ঘটনাস্থলেই মারা যান। এই বিষয়টি নিয়ে ভারত ও কানাডার মধ্যে সম্পর্কে বড়সড় ফাটল ধরে।
এই মামলায় কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ভারত সরকারকে, হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছিলেন। ট্রুডোর এই অভিযোগ ভারত প্রত্যাখ্যান করেছিল। কানাডা থেকে ভারতীয় হাইকমিশনের একাধিক আধিকারিককে ফিরিয়ে আনা হয়। নয়াদিল্লির কানাডা হাইকমিশন থেকেও বেশ কিছু আধিকারিককে বহিষ্কার করে সরকার। পরে ২০২৪ সালের মে মাসে কানাডা পুলিশ খুন এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তিন ভারতীয় নাগরিক করণ ব্রার, কমলপ্রীত সিং এবং করণপ্রীত সিংকে গ্রেফতার করে। মামলার শুনানি এখনও চলছে। এরই মধ্যে মার্ক কার্নি সরকারের খালিস্তানি দূতাবাস স্থাপনের ‘অনুমতি’ দেওয়ায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয় সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।
