ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টে বহু মামলার রায় দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকার বিষয়ে আবারও অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ মন্তব্য করে, “যেসব বিচারপতি রায় ঘোষণা করেননি, তারা বরং অনুমোদিত ছুটিতে গিয়ে রায় লিখুন। মানুষের কাছে বিচার আইনি ব্যাখ্যা বা তাত্ত্বিকতা নয়।”
রাজ্যের আদিবাসী এলাকাগুলোর ছাত্ররা হোম গার্ড নিয়োগ বাতিলের বিরুদ্ধে করা মামলায় ২০২৩ সালে শুনানি শেষ হলেও এখনও রায় ঘোষণা করা হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছিল। সেই সংক্রান্ত মামলাতেই ঝাড়খন্ড হাইকোর্টকে কড়া বার্তা শীর্ষ আদালতের দুই বিচারপতির।
সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টে বর্তমানে ৬১টি মামলার রায় শোনানো হয়নি, যদিও অনেকগুলোর শুনানি ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে শেষ হয়ে গিয়েছে।
বিচারপতিরা বলেন, “এই মামলাগুলো থেকে মুক্তি পাওয়া দরকার। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে আমাদের এই বার্তা পৌঁছে দিন।”
পূর্ববর্তী এক মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ২৩ এপ্রিল নির্দেশ দেয় যে, হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল যেন দুই মাসের বেশি সময় ধরে রায় সংরক্ষিত রয়েছে এমন সব মামলার বিস্তারিত রিপোর্ট সিলবন্দি খামে আদালতে দাখিল করেন। সেই রিপোর্টে ৫৬টি মামলা চিহ্নিত করা হয়, তবে পরে দেখা যায়, আরও বেশ কিছু মামলা রিপোর্টে অন্তর্ভুক্তই হয়নি। দেখা যায় যে এর মধ্যে বেশিরভাগ মামলার রায় সংরক্ষিত ছিল ২০২২ সাল থেকে।
একটি মামলায় ১০ জন দণ্ডপ্রাপ্ত (যার মধ্যে ৬ জন ফাঁসির আসামি) আদালতে আবেদন করেন যে, ২০২২ ও ২০২৩ সালে তাদের মামলার শুনানি শেষ হলেও রায় ঘোষণা হয়নি। পরে জানা যায়, এই মামলাগুলিও রেজিস্ট্রার জেনারেলের রিপোর্টে ছিল না।
শীর্ষ আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বজায় রাখতে হলে বিচারপতিদের সময়ের মধ্যে রায় ঘোষণা করাই বাধ্যতামূলক। বিচারপতিরা মন্তব্য করেন, “মানুষ বছরের পর বছর ধরে রায় পাওয়ার অপেক্ষায় থাকে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।”
