ভারতের দ্রুত অগ্রগতিতে ‘বিশ্বশক্তিগুলি ঈর্ষান্বিত’ – কার্যত এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানালেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। রবিবার সকালে মধ্যপ্রদেশের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির কড়া সমালোচনা করেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিশানা করে রাজনাথের বক্তব্য, “কিছু মানুষ ভারতের এই অগ্রগতি মেনে নিতে পারছে না। তাদের মনেই প্রশ্ন, ‘সবার বস তো আমি। তাহলে ভারত এত দ্রুত এগোচ্ছে কীভাবে?’ তাই ভারতীয় পণ্যের উপর বেশি শুল্ক বসিয়ে তা বিশ্বের বাজারে ব্যয়বহুল করার চেষ্টা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা যাতে অন্য দেশ ভারতীয় পণ্য কেনা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু তাঁর কথায়, “যেভাবে ভারত এগোচ্ছে, তাতে আমি নিশ্চিত যে, কোনও বিশ্বশক্তিই ভারতকে সুপারপাওয়ার হওয়া থেকে আটকাতে পারবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের উপর ৫০ শতাংশেরও বেশি শুল্ক আরোপ করেছে রাশিয়ান তেল কেনার জন্য। ভারত সরকার এই সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।”
পাশাপাশি এদিন রাজনাথ সিং ‘অপারেশন সিঁদুর” এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা অর্জনের গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “অপারেশন সিঁদুরে ভারতীয় সেনারা সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করেছেন এবং সেটিই ছিল সফলতার চাবিকাঠি। আত্মনির্ভরতার অঙ্গীকার না নিলে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হত না।”
তিনি বলেন, “আজ আমাদের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও রপ্তানি অভাবনীয় গতিতে বাড়ছে। আগে যুদ্ধবিমান থেকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম, প্রায় সবকিছুই বিদেশ থেকে আমদানি করা হত। এখন সেইসব ভারতেই তৈরি হচ্ছে, এবং অন্য দেশেও রপ্তানি হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “২০১৪ সালে, যখন মোদিজী প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন, তখন ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি ছিল মাত্র ৬০০ কোটি টাকা। আজ তা বেড়ে ২৪,০০০ কোটিরও বেশি। সারা বিশ্বের দেশগুলো এখন আমাদের তৈরি সামগ্রী কিনছে।”
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের অর্থনীতিকে ‘মৃত অর্থনীতি’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গেই রাজনাথ সিং ভারতের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির উল্লেখ করে বলেন, “২০১৪ সালে ভারত ছিল বিশ্বের ১১তম অর্থনীতি। আজ আমরা শীর্ষ চার দেশের মধ্যে। আমাদের বৃদ্ধির হার ৬.৩ শতাংশ, যা বিশ্বের দ্রুততম হারগুলির একটি। সবাই বলছে, যদি কোনও দেশের গতিশীল ও প্রতিশ্রুতিশীল অর্থনীতি হয়ে থাকে, তবে সেটি আমাদের ভারত।”
সম্প্রতি রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘আমার বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে, ট্রাম্পের আপত্তি থাকলেও ভারত রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যে অটুট থাকবে, সেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং ও স্পষ্ট করে দিলেন, শুল্কনীতি হোক বা বিদেশনীতি – মার্কিন চাপের কাছে মাথা নত করবে না ভারত।
