বিজেপি বিরোধী দলগুলির বিক্ষোভে উত্তাল হল রাজধানী দিল্লি। ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) নামে ভোটচুরির অভিযোগ তুলেছিল কংগ্রেস-সহ বিরোধী শিবির। নির্বাতন কমিশনের এই কাজের প্রতিবাদে সোমবার নির্বাচন কমিশনের দফতর ঘেরাওয়ের কর্মসূচি নেয় বিরোধীরা। সেই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরেই বাধল ধুন্ধুমার কাণ্ড। উত্তাল হল দিল্লি। সোমবার সংসদ ভবন থেকে প্রায় ২০০ জন বিরোধী সাংসদ প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিতে দিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরের উদ্দেশে রওনা হন। সাংসদদের সেই মিছিলের পথ আটকায় পুলিস। সাংসদদের আটকাতে সংসদ ভবন থেকে কিছু দূরে পুলিস ব্যারিকেড তৈরি করে। পুলিসি বাধায় যেতে না পেরে ব্যারিকেডে উঠে স্লোগান দিতে থাকেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র, সুস্মিতা দেব। ব্যারিকেড টপকে যান সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। তবে বাধা পেয়ে রাস্তার উপরেই বসে পড়েন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। রাস্তায় বসে স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা।
নির্বাচন কমিশনের অফিস ঘেরাওয়ের কথা আগেই জানিয়েছিল বিরোধীরা। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ সংসদ ভবন থেকে মিছিল করে কমিশনের অফিসের উদ্দেশে এগোতে থাকেন ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা। তবে বিরোধী সাংসদদের এই মিছিলের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিস। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আগেই কমিশনের তরফে বিরোধীদের চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে জানানো হয়, বিরোধীদের তোলা অভিযোগ নিয়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত কমিশন। আলোচনার জন্য ৩০ জন প্রতিনিধির নাম পাঠাতে বলে কমিশন। দুপুর ১২টায় আসতে বলা হয় বিরোধীদের। কিন্তু বিরোধী সাংসদরা সংসদ থেকে মিছিল করে বের হলে ব্যারিকেড তৈরি করে পুলিস মিছিল আটকে দেয়। সেই ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন বিরোধী সাংসদরা।
পুলিসি বাধায় রাস্তার উপরেই বসে পড়েন কংগ্রেস সাংসদরা। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ অন্য সাংসদরা রাস্তার উপর বসেই মোদি সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। মিছিল থেকে স্লোগান ওঠে ‘গলি গলি মে শোর হ্যায়, নরেন্দ্র মোদি চোর হ্যায়’। অন্যদিকে ব্যারিকেডের উপর চড়েন মহুয়া, সুস্মিতা-সহ তৃণমূলের কয়েকজন সাংসদ। ব্যারিকেড টপকে ঢুকে পড়েন সপা সাংসদ অখিলেশ যাদব, ভূপেন্দ্র যাদব। তাঁদের কোনওমতে ব্যারিকেডের ওপারে পাঠায় পুলিস। দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ চলার পর রাহুল গান্ধী-সহ বেশ কয়েকজনকে আটক করে দিল্লি পুলিস।
অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, রাহুল গান্ধী অসাংবিধানিক ও অনৈতিক কাজ করছেন। এই প্রথম এসআইআর হচ্ছে না। কংগ্রেস প্রথমে ইভিএম নিয়েও মিথ্যে অভিযোগ করেছিল। এবারও তারা এসআইআর নিয়ে একই ধরনের নাটক করছে। কংগ্রেসের কাছে যদি কারচুপির কোনও প্রমাণ থাকে তবে সেটা তারা সামনে আনুক।
বিরোধী শিবিরের পাল্টা অভিযোগ, রাজ্যে রাজ্যে বিজেপি কমিশনকে ব্যবহার করে জালিয়াতি করছে। বিজেপির পরামর্শেই লোকসভা ভোট এবং কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভা ভোটে নির্বাচন কমিশন কারচুপি করেছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন রাহুল গান্ধী। আগামী বছরের শুরুতেই কেরল, অসম, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ুর মতো কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তাই আগেভাগেই সতর্ক হতে চাইছে বিরোধীরা।
Leave a comment
Leave a comment
