ভারতের নাগরিক হিসেবে আধার কার্ডকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। আধার বিভিন্ন পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে পরিচিতিমূলক নথি মাত্র। এক্ষেত্রে আধার কার্ডের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু, এই কার্ড কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব প্রমাণ করে না। মঙ্গলবার বিহারের ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত মামলায় এই মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। আধার কার্ড নিয়ে কার্যত নির্বাচন কমিশনের মতামতই বহাল রাখল সর্বোচ্চ আদালত।
শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়েছে, যেভাবে স্থায়ী বাসিন্দা নিরূপণের কাজ চলছে, তা চলবে।
বিহারে বিধানসভা ভোটের আগে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর কাজ করছে। সংশোধিত ভোটার তালিকায় প্রায় ৬৫ লাখ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। কমিশন এই কাজে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে আধার কার্ডকে মান্যতা দেয়নি। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রাইটস। পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেস-সহ একাধিক রাজনৈতিক দলও সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। সেই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ জানায়, ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে আধার কার্ড ব্যবহার করা যায় না। বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে আধার কার্ড পরিচিতিমূলক নথি মাত্র।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন আগেই শীর্ষ আদালতে জানিয়েছিল, আধার কখনও স্থায়ী বাসিন্দার উপযুক্ত প্রমাণপত্র নয়। তাই আধার কার্ড থাকলেই ভোটদানের অধিকার থাকতে পারে এমনটা নয়। সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ কমিশনের সেই যুক্তিকেই সমর্থন করেছে।
অন্যদিকে আবেদনকারীদের তরফে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, আধার, রেশন এবং অন্য সচিত্র পরিচয়পত্রকে ভোটকর্মীরা কোনও প্রমাণ বলেই মানতে চাইছেন না।
এই সওয়ালের জবাবে বিচারপতি কান্ত বলেন, এই নথিগুলি শুধু প্রমাণ করে যে, আপনি ওই এলাকায় বাস করেন। বিচারপতি কান্ত আরও বলেন, বিহারে কারও কাছে বৈধ নথি নেই, এরকম যুক্তি খুবই হাস্যকর। আধার কিংবা রেশন কার্ড থাকলেও তা নাগরিকত্বের সুনিশ্চিত প্রমাণ নয়।
কমিশনের আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী বলেন, ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনের মতো এত বড় মাপের
কাজে কিছু ভুলভ্রান্তি হতে পারে। তবে ৩০ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে সেই সব ভুল শুধরে নেওয়া হবে।
বিচারপতির মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সিবাল পাল্টা প্রশ্ন করেন, এ ধরনের ভোটার তালিকা সংশোধনের অধিকার বা ক্ষমতা কমিশনের আছে কিনা? এ প্রসঙ্গে বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, কমিশনের যদি সেই ক্ষমতা না থাকত তাহলে
বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়ে যেত। কিন্তু, কর্তৃপক্ষের যদি সেই অধিকার থেকে থাকে তাহলে এই প্রক্রিয়ায় আদালতের কোনও আপত্তি নেই। আদালতের এদিনের মন্তব্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে কমিশন। অন্যদিকে সমস্যায় পড়ল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
