রবিবার ভুবনেশ্বরে পুরুষদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে অল্পের জন্য পদক হাতছাড়া করেছেন লালু ভোই। স্টেডিয়ামে উপস্থিত সকলেই আশা করেছিলেন, ঘরের ছেলের নাম পদক তালিকায় অবশ্যই থাকবে। কিন্তু মাত্র ০.০৪ সেকেন্ডের জন্য পোডিয়াম মিস করেছেন তিনি। প্রথম ভারতীয় কন্টিনেন্টাল টুরে তিনি সময় নেন ১০.৫৪ সেকেন্ড।
তবে লালুর পদক হাতছাড়া হলেও রবিবারের সন্ধ্যা স্প্রিন্টের দুনিয়ার এক নয়া প্রতিষ্ঠা দিয়ে গেল ভারতকে। সেইসঙ্গে অ্যাথলেটিকসের জগতে সূচনা করল এক নয়া যুগের। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে, স্প্রিন্ট এমন একটি ইভেন্ট যা নাকি একজন মানুষের আদিম প্রবৃত্তিকে প্রকাশ করে। ১০ সেকেন্ড বা তারও কম সময়ে যা পার হতে, তীব্র চাপ প্রয়োগ করে শরীরের প্রতিটি পেশীকে একত্রে স্থাপন করতে হয়। এরপর ক্ল্যাপ শুনতে পাওয়া মাত্রই নির্ধারিত লেন থেকে ছিটকে বেরিয়ে শুরু হয় টানা দৌড়। এই ট্র্যাক এতটাই প্রতিকূল যে সেখানে বন্ধু খুঁজে পাওয়া বিরল।
তবে ভারতের ৪ স্প্রিন্টার বদ্ধপরিকর হয়েছেন সেই ধারণাকে বদলে দিতে। রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের দুই কোচ জেমস হিলিয়ার এবং মার্টিন ওয়েন্সের তত্ত্বাবধানে অনিমেষ কুজুর, গুরিন্দরবীর সিং, মণিকান্ত হোবলিধর এবং অম্লান বরগোহাঁই দ্রুততম মানব হওয়ার দৌড়ে একে অপরের রেকর্ড ভাঙেছেন। তরুণ অনিমেষ এখন শীর্ষে অবস্থান করছেন। গ্রিসে ড্রোমিয়া প্রতিযোগিতায় গুরিন্দরবীরের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন তিনি। আর বর্তমানে বিষয়টি হয়ে গিয়েছে ঠিক এইরকমই। ৪ জন যখন আলাদা আলাদা ভাবে অংশ নেন তখন একে অপরের রেকর্ড ভাঙতে মরিয়া থাকেন। আর যখন তাঁরা রিলে দৌড়ে নামেন
হয়ে ওঠেন ধ্বংসের প্রতীক।
অনেকটা ছেলেবেলায় হিতোপদেশে পড়া গল্পটির মত। একটি লাঠি ভাঙা যতটা সহজ, একসঙ্গে ১০ টি লাঠি ভাঙা তার চাইতে ঢের কঠিন। কার্যত অসম্ভবই। একইভাবে ভারতের ৪ স্প্রিন্টারকেও একত্রিতভাবে বলা হচ্ছে, ধ্বংসের ৪ ভাই। এমনকি ম্যাচ শেষে লালুর কথায়ও, “অম্লান, গুরিন্দরবীর, মণিকান্তরা আমার সাথে তাদের ভাইয়ের মতো ব্যবহার করে। আমি ভাল করছি (PB 10.34)। ওরা আমাকে বলে যে আমরা যদি একে অপরকে চাপ না দেই, তাহলে কে দেবে? আর ওরা আমাকে বলে যে আমিও শীর্ষ স্তরে পৌঁছবো, আর ওরা আমাকে সেখানে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।”
