সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়: রাজ্য ও নির্বাচন কমিশন সংঘাত চরমে। এবার মুখ্যসচিবকে সশরীরে হাজিরার নির্দেশ। আগামিকাল বিকেল ৫টায় নির্বাচন সদনে হাজিরার নির্দেশ মুখ্যসচিবকে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যকরী রিপোর্ট বা চিঠি হতে নিয়ে সশরীরে দিল্লির নির্বাচন সদনে মুখ্যসচিবকে হাজির হওয়ার নির্দেশ পাঠাল নির্বাচন কমিশন।
ভোটার তালিকায় অস্তিত্বহীন ভোটারদের নাম ঢোকানোর অভিযোগে রাজ্যের চার সরকারি আধিকারিক এবং একজন ক্যাজুয়াল কর্মীকে অভিযুক্ত করে চার সরকারি কর্মীকে সাসপেন্ড করে পাঁচজনের বিরুদ্ধেই এফ আই আর করার জন্য মুখ্যসচিবকে সুপারিশ করে নির্বাচন কমিশন। সোমবার দুপুর তিনটের মধ্যে এই সুপারিশ কার্যকর করার চূড়ান্ত সময়সীমা ছিল। সেই সময়ের ঠিক আগেই রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ নির্বাচন কমিশনের সচিবকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেন, কমিশনের নির্দেশের প্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের এইআরও সুদীপ্ত দাস এবং বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের ক্যাজুয়াল কর্মী ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদারকে নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সমস্ত ধরনের কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী এবং একই কেন্দ্রের এইআরও তথাগত মণ্ডল এবং ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও বিপ্লব সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যসচিব। গোটা বিষয়টি নিয়ে অন্তবর্তী তদন্ত করা হচ্ছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করছে রাজ্য প্রশাসন। কমিশনকে জানিয়েছেন মুখ্যসচিব। নির্বাচন কমিশনের সুপারিশকে সম্পূর্ণভাবে মান্যতা দেয়নি রাজ্য প্রশাসন। বরং নির্বাচন কমিশনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কার্যকর রিপোর্ট দিতে গিয়ে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের পাশেই দাঁড়িয়েছেন মুখ্যসচিব। নির্বাচন কমিশনের সচিবকে লেখা চিঠিতে রাজ্যের মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, জেলাস্তরের নিচুতলায় যে সমস্ত সরকারি আধিকারিক কাজ করেন তাদের উপর সরকারি স্তরে ব্যাপক কাজের চাপ যেমন থাকে তেমনই ভোটার তালিকা তৈরির মতো সময়ানুবর্তী ও গুরুত্বপূর্ণ কাজের অতিরিক্ত চাপ থাকে। সামগ্রিক পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে নিজেদের অধস্তন কর্মীদের ওপর এই সরকারি আধিকারিকদের নির্ভর করতে হয়। এই ধরনের আধিকারিকদের ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে বিশদ তদন্ত প্রয়োজন। যারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কাজে যথেষ্ট দায়িত্ব ও সততার পরিচয় দিয়ে কাজ করছেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে হঠকারি সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা সরকারি কর্মীদের কাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও উল্লেখ করেছেন মুখ্যসচিব। এই পরিস্থিতিতে প্রাথমিকভাবে দুই সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হলেও বাকি দুই সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে আরও বিশদে তদন্ত করে ফের কার্যকরী রিপোর্ট কমিশনকে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ।
