তৃণমূলের বুথ কনভেনারকে গুলি করে খুনের ঘটনা ঘটলো বাঁকুড়ার সোনামুখী থানার চকাই গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে মৃতের নাম সেকেন্দার খাঁ ওরফে সায়ন খাঁ। সোমবার রাত ন’টা নাগাদ স্থানীয় পখন্না বাজার থেকে বাইকে চড়ে চকাই গ্রামে বাড়িতে ফেরার পথে আক্রান হন। পিছন থেকে পরপর গুলি চালিয়ে খুন করা হয় তৃণমূল নেতাকে। হাড়হিম করা ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর গত এক বছর ধরে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে উত্তাল বাঁকুড়ার সোনামুখী ব্লকের চকাই গ্রাম। গত ২ মার্চ গ্রামে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে গুলিও চলেছিল। সেই গুলিতে তৃণমূলের এক নেতা আহত হন। সেই ঘটনার ৬ মাস যেতে না যেতে, এবার গুলিতে খুন হলেন তৃণমূলের স্থানীয় বুথ কনভেনার।
এলাকাবাসীরা বলেছেনে বাইকে চেপে আসা সেকেন্দার আক্রান্ত হন চকাই গ্রামের সেচ খালের পাড়ে। তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। সেকেন্দার খাঁর পিঠে ও মাথায় গুলি লাগায় বাইক থেকে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। গোটা ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে সোনামুখী গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে হাসপাতালে উপস্থিত হন তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুব্রত দত্ত, সোনামুখীর পুরপ্রধান সন্তোষ মুখোপাধ্যায়, উপ পুরপ্রধান সোমনাথ মুখোপাধ্যায় সহ তৃণমূল নেতারা।
জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে সোনামুখী বিধানসভায় নিশ্চিত হার বুঝতে পেরেই সিপিএম কে সঙ্গে নিয়ে এই খুন করেছে বিজেপি। অভিযোগ উড়িয়ে বিজেপি বিধায়কের দাবি, এই খুনের সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। কাটমানির ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরে খুন।
এদিকে তৃণমূল নেতা খুনে অভিযোগের তীরে তৃণমূলেরই প্রাক্তন বুথ সভাপতি নাসিম শেখের বিরুদ্ধেও। নিহত সেকেন্দারের সঙ্গে তাঁদের গণ্ডগোলের কথা স্বীকার করলেও, নাসিমের পরিবারের দাবি এই খুনে তারা জড়িত নয় । যদিও নাসিম শেখকে বর্তমানে বিজেপির কর্মী দাবি করেছে মৃতের পরিবারের সদস্যরা।
