‘পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির হলেন স্যুট পরা ওসামা বিন লাদেন। মুনির যে ভাষায় কথা বলছেন তা শুনে ৯/১১ হামলার মূল চক্রী আল কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনের কথাই মনে পড়ছে।’ মঙ্গলবার এই ভাষাতেই পাক সেনাপ্রধান মুনিরের সমালোচনা করলেন পেন্টাগনের প্রাক্তন কর্তা মাইকেল রুবিন। সুর আরও চড়িয়ে রুবিন দাবি করেন, পাক সেনাধানের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে পার্সোনাল নন গ্র্যাটা ঘোষণা করা উচিত। যার অর্থ মুনিরের আমেরিকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা।
রবিবার ভারতের বিরুদ্ধে পরমাণু যুদ্ধের হুমকি দিয়েছিলেন পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির। তিনি বলেছিলেন, প্রয়োজনে অর্ধেক বিশ্বকে নিয়ে ধ্বংস হবে পাকিস্তান। মঙ্গলবার মুনিরের ওই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন পেন্টাগনের প্রাক্তন কর্তা মাইকেল রুবিন।
সংবাদ মাধ্যমকে রুমিন বলেন, পাক ফিল্ড মার্শালের মন্তব্য ওসামা বিন লাদেনের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে যেভাবে তিনি হুমকি দিয়েছেন সেটা কখনওই মেনে নেওয়া যায় না। পাকিস্তান যেভাবে এই হুমকি দিয়েছে তাতে গোটা বিশ্বের সামনে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে। জানতে ইচ্ছে করছে, পাকিস্তান কি আদৌ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে তার দায়িত্ব পালন করছে? মুনিরকে দেখে মনে হচ্ছে, উনি স্যুট টাই পরা ওসামা বিন লাদেন।
রুবিনের দাবি, মার্কিন প্রশাসনের উচিত মুনিরের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে কুটনৈতিক পদক্ষেপ করা। আমেরিকার উচিত, পাক সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে পার্সোনাল নন গ্র্যাটা ঘোষণা করা। অর্থাৎ আমেরিকায় মুনিরের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা। মুনিরকে ভবিষ্যতে আমেরিকার ভিসা দেওয়া উচিত নয়। তবে শুধু মুনির নয়, পাকিস্তানের একাধিক আধিকারিকের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত বলে রুবিনের দাবি। পাকিস্তান ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখতে হবে বলে তিনি দাবি তুলেছেন।
দেশের বিদেশনীতির সমালোচনাও শোনা গিয়েছে রুবিনের গলায়। তিনি বলেন, ন্যাটো গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির বাইরে পাকিস্তানকে কেন প্রধান সহযোগী হিসেবে হোয়াইট হাউস মনে করছে তা বোধগম্য নয়। পাকিস্তান সরকার যেভাবে সন্ত্রাসবাদে মদত জুগিয়ে চলেছে তাতে অবিলম্বে তাদের ন্যাটো সহযোগীর বাইরে রাখা উচিত। আমেরিকা সেন্ট্রাল কমান্ডের সদস্য পদ থেকেও ঘাড় ধাক্কা দেওয়া উচিত ইসলামাবাদকে।
এদিকে রুবিন যেভাবে চাঁচাছোলা ভাষায় পাকিস্তানের সমালোচনা করেছেন তাতে যথেষ্ট অস্বস্তিতে ট্রাম্প প্রশাসন। তিনি যেভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার উপর জোর দিয়েছেন তাতে হোয়াইট হাউস চাপে পড়েছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
