দাদার হাতে রাখি বেঁধেছিল কিশোরী বোন। সেই বোনকেই ধর্ষণ করে খুন করার অভিযোগ দাদার বিরুদ্ধে উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের আউরিয়ায়।
গত শনিবার ছিল রাখি পূর্ণিমা। বোনের কাছে রাখি পরতে শনিবার কাকার বাড়ি গিয়েছিল অভিযুক্ত যুবক সুরজিৎ। রাখি বাঁধার পর দিনভর হইহুল্লোড়ে মেতে ওঠেন পরিবারের সকলেই। খাওয়া দাওয়া সেরে সুরজিৎ নিজের বাড়ি ফিরে যায়। এরপর মাঝরাতে মদ্যপ অবস্থায় সুরজিৎ আবার কাকার বাড়িতে ফিরে আসে।
কোনওরকমে কাকার বাড়িতে ঢুকে সে পৌঁছে যায় ঘুমিয়ে থাকা কিশোরী বোনের ঘরে। ঘুমন্ত অবস্থাতেই বোনকে ধর্ষণ করে সে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সে মৃতের গলায় ফাঁস দিয়ে পাখার সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয়। সুরজিৎ ভেবেছিল, বিষয়টি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেবে। পাশের ঘরে ঘুমিয়ে থাকলেও ওই কিশোরীর মা-বাবা ঘুণাক্ষরেও কিছু টের পাননি। সকালে উঠেই তাঁরা মেয়ের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান।
পুলিস এসে ঘটনার তদন্ত শুরু করে। দেখা যায় স্কুল পড়ুয়া ওই কিশোরীর দেহে রয়েছে একাধিক আঘাতের চিহ্ন। বিছানায় ও ঘরের দেওয়ালে রয়েছে রক্তের দাগ। এটা থেকেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে ওই কিশোরী আত্মহত্যা করেনি। এরপরই পরিবারের সকল সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিস। খবর পেয়ে কাকার বাড়িতে এসে পৌঁছয় সুরজিৎ। পুলিস তাকেও জেরা করতে শুরু করে। কিন্তু সুরজিতের কথায় ছিল একাধিক অসঙ্গতি। তাতেই পুলিশের সন্দেহ বাড়ে। দীর্ঘক্ষণ জেরার পর চাপের মুখে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে নেয় সুরজিৎ। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।
ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠিয়েছে পুলিস। প্রাথমিক তদন্তে পুলিসের অনুমান, ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। প্রমাণ লোপাট করতেই ওই কিশোরীকে খুন করা হয়েছে।
