রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় রইল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্যসচিবকে দিল্লিতে ডেকে দুই ইআরও এবং দুই এইআরও-কে সাসপেন্ড করে ফৌজদারি দণ্ডবিধিতে এফআইআর এবং এক ক্যাজুয়াল কর্মীর বিরুদ্ধে একই ধারায় এফআইআর করার সিদ্ধান্ত বহাল রেখে ফের ডেডলাইন বেঁধে দিল নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, কমিশনের সিদ্ধান্ত মেনে সুপারিশ কার্যকর করবে রাজ্য। এই অবস্থায় রাজ্যের আরও দুই ইআরও এবং দুই এইআরও-সহ মোট ছ’জনের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন একই শাস্তির সুপারিশ করতে চলেছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে নন্দকুমার ও রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভার দুই ইআরও ও দুই এইআরও এবং সংশ্লিষ্ট দুই ডেটা এন্ট্রি অপারেটরকে ডেকে হিয়ারিং করে তাঁদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ সহযোগে নির্বাচন কমিশনে রিপোর্ট পাঠিয়ে দিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। প্রথম দফার পাঁচজনের বিরুদ্ধে কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করা নিয়ে রাজ্যের টালবাহানা এবং তা নিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে দিল্লিতে তলব করে সুপারিশ কার্যকর করা কার্যত নিশ্চিত করার পর এবার পরবর্তী দফার সুপারিশের পথে হাঁটতে চলেছে কমিশন বলে মনে করছেন পদস্থ আধিকারিকরা।
অন্যদিকে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্য সভা থেকে সরকারি বৈঠকে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে কমিশনের শাস্তির সুপারিশ কার্যকর করা হবে না বলে বরাভয় দিয়েছেন। কমিশনের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে নির্বাচনের সময় ছাড়া সরকারি কর্মীদের শাস্তির সুপারিশ করার ক্ষেত্রে কমিশনের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকী বাংলায় এসআইআর করতে দেওয়া হবে না বলে সোচ্চার হয়েছেন। এই অবস্থায় শাস্তির বিষয়ে অনড় কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করা এবং কমিশনের পরবর্তী সম্ভাব্য শাস্তির সুপারিশ কার্যকরে সিদ্ধান্ত নেওয়া যে বড় চ্যালেঞ্জ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যদিও আগামী দু-একদিনের মধ্যেই কমিশন-রাজ্য সংঘাতের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের পদাধিকারীরা।
