সোনিয়া গান্ধী ও মানেকা গান্ধীর পরিবারের মধ্যে যে বিশেষ সুসম্পর্ক আছে তেমনটা নয়। বরং এই দুই পরিবার দেশের দুই যুযুধান শিবিরের সঙ্গে যুক্ত। তবে পথকুকুর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এক নির্দেশে কার্যত মিলে গেল বিপরীত মেরুতে থাকা এই দুই পরিবার। আদালতের নির্দেশ নিয়ে একই সুরে কথা বলছেন তাঁরা। দুই পরিবারেরই দাবি, শীর্ষ আদালতের উচিত এই রায় সংশোধন করা।
পশুপ্রেমী হিসেবে মানেকা গান্ধীর দেশে-বিদেশে সুখ্যাতি আছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাকাকালীন মানেকা নিজের পোষ্যদের সঙ্গে নিয়েই অফিস করতেন। আদালতের রায় সম্পর্কে মানেকা বলেছেন, কুকুরের উপর প্রবল রাগ আছে এমন ব্যক্তি ছাড়া এই ধরনের কথা অন্য কেউ বলতে পারে না। ফলে রাগ থেকে আসা সিদ্ধান্তের কোনও অনুভূতি থাকে না। আদালত পথ কুকুরদের খোঁয়াড়ে রাখতে বললেও দিল্লিতে কুকুরের জন্য কোনও সরকারি খোঁয়াড় নেই।
কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেছেন, কয়েক দিনের মধ্যে সমস্ত পথ কুকুরকে আশ্রয় কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হলে তাদের প্রতি চরম অমানবিক আচরণ করা হবে। তাছাড়া সমস্ত পথকুকুরকে আশ্রয় দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্র দিল্লিতে নেই।
প্রিয়াঙ্কার অভিযোগ, শহরাঞ্চলে এই নিরীহ প্রাণীদের উপর অকথ্য অত্যাচার চলছে। কুকুর হল মানুষের সবচেয়ে কাছের এবং বিশ্বস্ত প্রাণী। তাদের ক্ষেত্রে এই ধরনের নিষ্ঠুরতা কখনওই কাম্য নয়। মানবিক উপায়ে কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করা যায় তা দেখতে হবে।
দেশের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, সমস্যা সমাধানে সুপ্রিমকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছে তা মানবতা বিরোধী। এই নির্দেশ মেনে কাজ করলে আমরা আরও কয়েক দশক পিছিয়ে যাব। এই নিরীহ প্রাণী এমন কোনও সমস্যা নয় যে, তাদের একেবারে সরিয়ে দিতে হবে।
একইসঙ্গে রাহুলের পরামর্শ, খোঁয়াড় তৈরি, নিয়মিত টিকাকরণ এবং নির্বীজকরণের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। কোন নৃশংসতা ছাড়াই পথঘাট নিরাপদ ও সুরক্ষিত করা যায়। কিন্তু আদালত যেভাবে সমস্ত পথ কুকুরকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে তাতে করুণার অভাব প্রকট।
রাহুল স্মরণ করিয়ে দেন, জননিরাপত্তা ও প্রাণী কল্যাণ এই দুই বিষয় কখনওই আলাদা নয়। তবে আদালতের নির্দেশ নিয়ে সবচেয়ে কড়া সমালোচনা এসেছে গান্ধী পরিবারের তরুণ সদস্য বরুণ গান্ধীর কাছ থেকে।
প্রাক্তন বিজেপি সংসদ বলেছেন, এই নির্দেশ দিয়ে সুপ্রিমকোর্ট নিষ্ঠুরতার নজির তৈরি করেছে। এই নির্দেশ নিষ্ঠুরতাকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে।
উল্লেখ্য গত সোমবার সুপ্রিম কোর্ট এক নির্দেশে ৮ সপ্তাহের মধ্যে দিল্লির রাস্তা থেকে সব পথকুকুর সরানোর নির্দেশ দেয়। সেই সুপ্রিম নির্দেশই গান্ধী পরিবারকে কার্যত এক ছাতার তলায় নিয়ে এল।
