বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিতর্কের মধ্যেই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী কমিশনের ভোট জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগের স্বপক্ষে আরও একটি দাবি তুলে ধরলেন। বুধবার তিনি দিল্লিতে নিজের বাসভবনে বিহারের সাতজন এমন ভোটারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যাঁরা জীবিত থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের তালিকায় “মৃত” হিসেবে চিহ্নিত হয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনাকে ব্যঙ্গ করে রাহুল গান্ধী সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে বলেন, “জীবনে অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে, কিন্তু ‘মৃত’ মানুষদের সঙ্গে চা খাওয়ার সুযোগ এই প্রথম। এই অনন্য অভিজ্ঞতার জন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ!”
তিনি ওই সাক্ষাতের একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেন। ভিডিয়োতে দেখা যায়, ওই ভোটাররা কংগ্রেস নেতাকে জানাচ্ছেন, কীভাবে তাঁরা জানতে পারেন যে নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সংশোধিত তালিকায় তাঁদের নাম নেই এবং তাঁরা “মৃত” হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন।
ভোটাররা রাহুল গান্ধীকে আরও জানান, এই ঘটনার পর তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত হয়ে আবেদন করেছেন, যাতে তাঁদের নাম আবার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বিহারে এই বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক আবেদন শুনানির পর্যায়ে রয়েছে।
সাক্ষাৎকার চলাকালীন রাহুল গান্ধী তাঁদের মজার ছলে জিজ্ঞেস করেন, তাঁরা আগে কখনও দিল্লি এসেছেন কিনা। তিনি বলেন, “আপনারা তো এখন ‘মৃত’। দিল্লি ঘোরার জন্য আপনাদের আর কোনওরকম টিকিটের দরকার হবে না!”
যাঁরা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, তাঁদের নাম রামইকবাল রায়, হরেন্দ্র রায়, লালমুনি দেবী, বাছিয়া দেবী, লালবতী দেবী, পুনম কুমারী এবং মুন্না কুমার। এই সাতজনই বিহারের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদবের রাঘোপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দা।
দলটির দাবি, তাঁরা এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও তাঁদের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন কোনও বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করেনি, যেখানে বলা হয়েছে কারা মৃত, অভিবাসী বা স্থানান্তরিত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
কংগ্রেসের তরফ থেকে বলা হয়েছে, “আমাদের সমীক্ষক দল শুধুমাত্র ২-৩টি বুথে কমিশনের অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট নিজেদের উদ্যোগে সংগ্রহ করে এই ভোটারদের খুঁজে পেতে সক্ষম হয়েছে।”
সমীক্ষক দলের রিপোর্ট, এই সাতজন ভোটার শুধু একটি ক্ষুদ্র উদাহরণ। এমন হাজার হাজার ভোটার বিহারে হয়ত একইভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “এটি কোনও ছাপার ভুল নয়, এটি গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার স্পষ্ট প্রক্রিয়া যা রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
বেঙ্গালুরুতে সম্প্রতি ভোটার তালিকা নিয়ে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ সামনে আসার প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেস বলেছে, “বেঙ্গালুরুতে ‘ভোট চুরি’র ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর এটা স্পষ্ট যে বিহারের এসআইআর প্রক্রিয়াও দুর্নীতিগ্রস্ত। যখন জীবিত মানুষকে ‘মৃত’ বলে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়, তখন গণতন্ত্রেরই মৃত্যু ঘটে।”
এই ঘটনাটি শুধুমাত্র ভোটার তালিকা সংশোধনের ভুল নয়, বরং নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার উপর বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল বলেই দাবি কংগ্রেসের। সুপ্রিম কোর্টের রায় ও পরবর্তী পদক্ষেপ এই ইস্যুর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলে জানানো হয়েছে দলের তরফে।

