দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকার হুমায়ুনের সমাধির কাছে দরগাহ শরীফ পাট্টে শাহের একটি ঘরের ছাদ ভেঙে পরল শুক্রবার বিকেলে। জুম্মাবারের নামাজের জন্য সেই সময় দরগায় জড়ো হয়েছিলেন প্রার্থনা কারীরা। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। আহত হয়েছেন ১২ জন। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে। দেয়ালের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ছয়জন মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন মহিলা এবং দুইজন পুরুষ।
ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, দমকল এবং পুলিশ। ইতিমধ্যেই ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে এইমস ও সফদারজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিভাগীয় দমকল কর্মকর্তা মুকেশ শর্মা জানিয়েছেন, এইমস হাসপাতালে ভর্তিদের মধ্যে পাঁচজনের এবং হাসপাতালে ভর্তিদের মধ্যে একজনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে।
ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী বিশাল কুমার জানান, “আমি হুমায়ুন সমাধিতে কাজ করি। শব্দ শুনতে পেয়ে আমার সুপারভাইজার ছুটে আসেন। আমরা লোকজন এবং প্রশাসনকে ডাকি। ধীরে ধীরে, আমরা আটকে পড়া লোকদের বের করে আনি।”
পুলিশের যুগ্ম কমিশনার সঞ্জয় কুমার জৈনের মতে, শুক্রবারের নামাজের জন্য মানুষ দরগায় যাচ্ছিলেন এবং বৃষ্টির কারণে ঘরের ভেতরে বসে ছিলেন, যখন ঘটনাটি ঘটে। উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দিল্লির অন্যতম দর্শনীয় স্থান নিজামুদ্দিনের হুমায়ুন টোম্ব সংলগ্ন এই পাট্টে শাহের দরগা রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। বিখ্যাত সুফি সাধক পাট্টে শাহ ১৬০৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পরিবেশকে এতটাই ভালোবাসতেন যে, তিনি তাঁর অনেক রচনায় গাছপালা এবং পাতার উল্লেখ করেছেন। এই কারণেই তাঁর ডাক নাম ‘পাট্টে’ হয়ে যায়। তাঁর পুরো নাম ছিল মখদুম শাহ পাট্টে। তিনি ফার্সি এবং উর্দু ভাষার একজন বিখ্যাত কবি ছিলেন। তিনি সেই যুগের একজন সুপরিচিত পণ্ডিত এবং কবি হিসেবে পরিচিত। তিনি তাঁর কবিতায় প্রকৃতি এবং আধ্যাত্মিকতার ওপর তাঁর ভালবাসার কথা তুলে ধরেছিলেন। ১৬৯৫ সালে তাঁর মৃত্যুর পর ভক্তরা এই দরগা তৈরি করেন। তাঁর গুণগ্রাহী সকল ধর্মের মানুষ আজও এই দরগায় এসে তাঁকে স্মরণ করেন।
