উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে জগদীপ ধনখড় পদত্যাগ করেছেন ২১ জুলাই, সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিন রাত্রেই। ২৫ জুলাই জাতীয় নির্বাচন কমিশন জানায়, উপরাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন হবে ৯ সেপ্টেম্বর। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শুরু হবে ৭ আগস্ট থেকে। অথচ এখনও পর্যন্ত শাসকদলের প্রার্থী কে হবেন, তা ঠিক করে উঠতে পারল না গেরুয়া শিবির।
ইতিমধ্যেই রাজনাথ সিং-এর নেতৃত্বে শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে, শাসক শিবিরের প্রার্থী কে হবেন তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা। কিন্তু তারপরেই একদিকে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর, তার সঙ্গে হঠাৎ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত-বিরোধী হুমকি অনেকটাই দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে মোদির কপালে।
যদিও প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ত থাকলেও বিজেপি সূত্রে খবর, নাড্ডা প্রার্থী ঝাড়াই বাছাই-এর কাজ শুরু করে দিয়েছেন আগেই। গত এক মাসে একাধিক রাজ্যপাল, উপরাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নাড্ডা, অমিত শাহ, রাজনাথ সিং। কয়েকজনকে ডেকে পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীও।
শাসক শিবিরের প্রার্থীকে বিজেপি ও সংঘ পরিবারের আদর্শের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকার পাশাপাশি সাংবিধানিক পদের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, এটাই প্রধান শর্ত। এই শর্ত অনুযায়ী যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে, তাঁদের মধ্যে আছেন দিল্লির উপরাজ্যপাল ভি কে সাক্সেনা, বিহারের রাজ্যপাল আরিফ মহাম্মদ খান, গুজরাতের রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রত, কর্নাটকের রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলট, সিকিমের রাজ্যপাল ওম মাথুর, জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা, আরএসএস-এর তাত্ত্বিক নেতা শ্রী শেষাদ্রী চারে প্রমুখ।
পাশাপাশি নীতীশ কুমার ও চন্দ্রবাবু নাইডুর দলের ওপর ভর দিয়ে চলা বিজেপি সরকার নির্ভরশীল শরিকদের হাতে রাখতে, এই দুই দল থেকে কাউকে প্রার্থী করে কিনা, তাই নিয়েও জল্পনা চলছে। অতীতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলিত, আদিবাসী বা মহিলা কার্ড খেলে রামনাথ কোবিন্দ বা দ্রৌপদী মুর্মুর মতো জাতীয় রাজনীতিতে অপরিচিত কোনও মুখকে প্রার্থী করে চমক দেওয়া হতে পারে বলেও বিজেপি সূত্রে খবর।
তবে প্রার্থী চূড়ান্ত করা নিয়ে এই দোলাচল আর বেশিদিন ধরে বাড়াতে চাইছেন না মোদি। রবিবার বিজেপি সদর দফতরে দলের সংসদীয় বোর্ডের বৈঠক ডেকেছেন তিনি। নাড্ডা, রাজনাথ, অমিত শাহদের উপস্থিতিতে সেদিনই প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার কথা। এরপর মঙ্গলবার এনডিএর বৈঠকে আনুষ্ঠানিক শিলমোহর দেওয়া হবে সেই নামে।
তবে শাসক শিবির নাম ঘোষণা কবে করবে তা নিয়ে একটা ধোঁয়াশা তৈরি করে রাখা হয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানিয়েছিলেন, ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে তাদের প্রার্থী কে হবেন তা নিয়ে আলোচনা করলেও তারা আগে দেখতে চান শাসকদলের প্রার্থী কে ? বিশেষ করে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীত অবস্থান নিয়ে কংগ্রেস কিছুটা চিন্তায়। রাজ্যপাল থাকাকালীন জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে রাজ্য সরকারের আদায়-কাঁচকলায় সম্পর্ক থাকলেও, উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাঁর বিরুদ্ধে ভোট না দিয়ে ভোটদানে বিরত থাকেন তৃণমূল সাংসদরা। গত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী শিবির যশোবন্ত সিনহাকে প্রার্থী করলেও, দ্রৌপদী মুর্মু আদিবাসী এবং মহিলা বলে তাঁর পক্ষে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মমতা। তাই সাবধানী কংগ্রেস আগে দেখে নিতে চাইছে শাসকদলের প্রার্থী কে হন। উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ২১ আগস্ট। বিজেপি সূত্রের খবর, বিরোধী শিবিরকে পাল্টা ধোঁয়াশায় রাখতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলেও তার দু-এক দিন আগে তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারে শাসক দল।
উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন লোকসভা এবং রাজ্যসভার সাংসদরা। দুই কক্ষের সাংসদদের সংখ্যার বিচারে এমনিতেই শতাধিক ভোটের ওপর এগিয়ে রয়েছে এনডিএ। কিন্তু ভোটে হারলেও বিজেপিকে ওয়াকওভার দিতে নারাজ কংগ্রেস। উল্লেখযোগ্য ভাবে, এসআইআর-এর পাশাপাশি বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালি হেনস্থা নিয়েও এই মুহূর্তে কংগ্রেস আর তৃণমূল জাতীয় পর্যায়ে এখন একজোট। তবে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এই ঐক্য বজায় থাকে কিনা, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
