জগদীপ ধনখড়ের উত্তরসূরি হিসেবে দেশের পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল চন্দ্রপূরম পন্নুস্বামী রাধাকৃষ্ণণকে বেছে নিল এনডিএ। রবিবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে রাধাকৃষ্ণণের নাম ঘোষণা করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা। নাম ঘোষণার পরেই নাড্ডা জানান, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সর্বসম্মতিক্রমে সি পি রাধাকৃষ্ণণ পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি পদে নিযুক্ত হবেন এটাই আশা করি। নাড্ডার বক্তব্যে সাড়া দিয়ে এনডিএ শরিকরা সহমত পোষণ করেন। অর্থাৎ সংখ্যার নিরিখে দেশের পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে সিপি রাধাকৃষ্ণণের কোনও বাধা থাকছে না। তবে যে মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বিজেপি তথা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে নেমেছে কংগ্রেস তথা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সেই মহারাষ্ট্রের রাজ্যপালকে দেশের উপরাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নে বিরোধীরা কতটা সহমত পোষণ করবেন তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। পদাধিকার বলে উপরাষ্ট্রপতি হলেন সংসদের উচ্চকক্ষ বা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান। অবশ্য সি পি রাধাকৃষ্ণণকে পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি পদে সমর্থনের জন্য বিরোধী পক্ষের কাছেও আবেদন জানিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি।
তামিলনাড়ুর বাসিন্দা রাধাকৃষ্ণণ অতীতে কোয়েম্বাটুর থেকে দুবার সাংসদ হয়েছিলেন। অন্যদিকে বিজেপির এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষিতেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৬-এ পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, কেরলের সঙ্গে তামিলনাড়ুতেও বিধানসভা নির্বাচন। স্বাভাবিকভাবেই তামিলনাড়ুর প্রাক্তন তথা প্রবীণ বিজেপি নেতা রাধাকৃষ্ণণকে উপরাষ্ট্রপতি পদে বসিয়ে তামিল মন জয় করার চেষ্টা করেছে বিজেপি বলেও মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পাশাপাশি তামিলনাড়ুর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন যেভাবে দক্ষিণ ভারতের হিন্দি আগ্রাসন নিয়ে আন্দোলন চালাচ্ছেন সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তামিল ওবিসি সম্প্রদায়ভুক্ত রাধাকৃষ্ণণকে উপরাষ্ট্রপতির চেয়ারে মনোনীত করে বিশেষ দক্ষিণি বার্তা দিতে চেয়েছে বিজেপি। প্রসঙ্গত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেও ওবিসি তালিকাভুক্ত এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু নিজে একজন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ। স্বাভাবিকভাবেই ইন্ডিয়া শিবিরের সিদ্ধান্ত দক্ষিণ ভারত তো বটেই গোটা দেশেই অনগ্রসর সম্প্রদায়কে গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার কতটা তৎপর সেদিকেই দিক নির্দেশ করতে চেষ্টা করেছে মোদি সরকার বলে ধারণা।
