উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে সড়ক যোগাযোগে গতি আনতে ফরাক্কায় দ্বিতীয় সেতু শিগগিরই চালু হচ্ছে।
প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের এই সেতুর কাজ পুজোর আগেই শেষ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ।
২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের উদ্যোগে প্রায় ৬২২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প শুরু হয়। যদিও নানা কারণে কাজ বারবার বিলম্বিত হয়েছে, এখন মূল নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে বলেই কর্তৃপক্ষের দাবি।
বর্তমানে ফরাক্কা ব্যারাজের উপর যে সেতুটি রয়েছে, সেটি মাত্র দু’লেনের। অথচ সেতুর দুই প্রান্তেই জাতীয় সড়ক ১২ নম্বরে চার লেন থাকায় প্রতিদিন যান চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। আগে যেখানে দৈনিক প্রায় ৩ হাজার গাড়ি যাতায়াত করত, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজারের বেশি। ফলে ব্যারাজে অতিরিক্ত চাপ পড়ছে এবং লকগেট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। ইতিমধ্যেই ফরাক্কা বেরাজে একাধিক লগেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন সেতু চালু হলে যানজট কমার পাশাপাশি ফারাক্কা বাঁধও অনেকটা সুরক্ষিত থাকবে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন সেতুটি ২৫ মিটার চওড়া। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ২.৫৮ কিলোমিটার এবং বাকি অংশ অ্যাপ্রোচ রোড মিলিয়ে মোট দৈর্ঘ্য ৫.৪৬৮ কিলোমিটার। খরচ প্রথমে ধরা হয়েছিল ৫২১ কোটি টাকা। কিন্তু প্রকল্পের কাজে দেরি হওয়ার কারণে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২২.০৪ কোটি টাকা। সেতুর নির্মাণ করছে একটি চিনা সংস্থা এবং বিশাখাপত্তনমের একটি সংস্থা যৌথভাবে। সম্প্রতি প্রকল্প আধিকারিক ভেঙ্কটেশ স্বামী এবং জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেছেন। ফরাক্কার মানুষজনের আশা, পুজোর আগে সেতুটি চালু হলে উত্তরবঙ্গ-দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগের গতি বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে বদলে যাবে ফরাক্কা, ধুলিয়ান, শামসেরগঞ্জ এর মত সন্নিহিত এলাকা সহ মুর্শিদাবাদ ও মালদহ জেলার স্থানীয় আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ছবিটাও।
