গত বছর রোহিত শর্মার নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে টিম ইন্ডিয়া। এ বার সেই বিশ্বজয় নিয়ে বোমা ফাটালেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার অম্বাতি রায়ডু। ফাইনালের শেষ ওভারে বাউন্ডারি লাইনে ডেভিড মিলারের অসাধারণ ক্যাচ নিয়ে ভারতের জয় কার্যত নিশ্চিত করেছিলেন সূর্য কুমার যাদব। সেই ক্যাচের দিকেই এ বার আঙুল তুলে নয়া বিতর্কের জন্ম দিলেন রায়ডু।
শেষ ওভারে বাকি ছিল ১৬ রান। হার্দিক পাণ্ডিয়ার প্রথম বলেই বোলারের মাথার উপর দিয়ে সপাটে মারেন মিলার। এই সময় আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন অনেক ভারতীয় সমর্থকই। হার্দিকের লো ফুলটসে মিলারের জোরালো শট চলে যাচ্ছিল সীমানার বাইরে। কিন্তু তখনই ঘটে যায় চমৎকার। লং অফ থেকে ছুটে এসে বলটি তালুবন্দি করেন সূর্য কুমার যাদব। এর পর ব্যালেন্স রাখতে পারবেন না বুঝতে পেরে বলটি ভেতরের দিকে ছুঁড়ে দেন তিনি। তারপর একবার বাউন্ডারির বাইরে গিয়ে পুনরায় ফিরে এসে ক্যাচটি নেন।
এই একটি ক্যাচই নিশ্চিত করে দেয় ভারতের বিশ্বকাপ জয়। যদিও বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বাউন্ডারির দড়ি সঠিক জায়গায় ছিল না। ফলে কিছুটা হলেও বাড়তি সুবিধা পেয়েছেন সূর্য। এ বার সেই বিতর্কের আঁচ নতুন করে বাড়িয়ে দিলেন অম্বাতি রায়ডু। তিনিও জানিয়ে দিলেন, বাউন্ডারির দড়িটি কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যা নিজে চোখে দেখেছেন বলে দাবি করেছেন চেন্নাই সুপার কিংসের প্রাক্তন তারকা।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে এসে এই ঘটনার জন্য সম্প্রচারকারী চ্যানেলকে দুষেছেন রায়ডু। তিনি বলেন, “বিশ্বের সেরা ধারাভাষ্যকাররা উপস্থিত ছিলেন ওখানে। তাই ইনিংস বিরতির সময় সম্প্রচারের সুবিধার্থে ওখানে একটি চেয়ার আর পর্দা রাখা হয়। যে কারণে দড়িটিকে একটু পিছিয়ে দেওয়া হয়। যাতে ধারাভাষ্যকাররা দেখতে পান কী হচ্ছে। কিন্তু পরে চেয়ার ও পর্দা সরিয়ে দেওয়া হলেও দড়িটাকে আর আগের জায়গায় ফেরানো হয়নি। ফলে বাউন্ডারি কিছুটা বড় হয়ে গিয়েছিল। আমরা উপর থেকে সেটা দেখতে পাচ্ছিলাম। এটা সম্ভবত ঈশ্বরেরই ইচ্ছা ছিল।”
সে দিনের পরাজিত দল দক্ষিণ আফ্রিকার তরফে কোনও অভিযোগ জানানো না হলেও সূর্যের ক্যাচ নিয়ে বারেবারে সরব হয়েছেন পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের সমর্থকরা। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমন দাবিও করেছেন যে ক্যাচটি নেওয়ার সময় সূর্যের পা বাউন্ডারির দড়ি স্পর্শ করেছিল। সে দাবি যদিও মানেন না রায়ডু। তবে তাঁর কথায়, “দড়ি ঠিক জায়গায় থাকলে, আমি জানি না ওটা ৬ হত কি হত না। তখন হয়ত সূর্য কুমারকে ভিতর দিয়ে দৌড়াতে হত।”
