বিরোধী জোটের নেতা কে? দীর্ঘ সময় ধরে অমীমাংসিত এই প্রশ্ন নিয়ে আরও একবার বিতর্ক উসকে দিলেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব। রাহুল গান্ধীকেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান তিনি, মন্তব্য রাজ্যের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতার।
মঙ্গলবার বিহারের নওয়াদায় রাহুলের ‘ভোট অধিকার যাত্রা’ চলাকালীন রাহুলের পাশে দাঁড়িয়ে তেজস্বী যাদব বলেন, “বিরোধী পক্ষ আগামী লোকসভা নির্বাচনে রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার দিকে কাজ করবে। রাহুলই ইন্ডিয়া ব্লকের মুখ হতে চলেছেন। পরের বার, আমরা রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী বানাব।”
র্যালি চলাকালীন তেজস্বী অভিযোগ করেন যে, নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি মিলে ভোট চুরি করার এবং বিহারের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করার জন্য একটি আঁতাঁত করেছে।
নির্বাচন কমিশনের কাজকর্মকে “খৈনির” সঙ্গে তুলনা করে তাঁর তীব্র কটাক্ষ, “আমরা বিহারী। বিহারীরা সবাইকে ছাপিয়ে যায়। আমরা নির্বাচনকে খৈনির মতো দেখি। হাতে নিয়ে মাখি আর ফেলে দিই।”
তিনি যুবসমাজকে আহ্বান জানান, “নীতীশ কুমারের সরকার এখন ‘পুরনো নড়বড়ে’ হয়ে গেছে, এটি তাড়াতাড়ি বদলাতে হবে। এখন যুবকদের সুযোগ পাওয়া উচিত। যুবসমাজ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা এই পুরনো এবং নড়বড়ে সরকারের পতন ঘটাবে।” পাশাপাশি ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনে যুব সমাজের প্রতিনিধি রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বেই কেন্দ্রের পুরনো এনডিএ সরকারের পতন ঘটবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিরোধী জোটের নেতৃত্বের বিষয়টি ইন্ডিয়া ব্লকের জন্য দীর্ঘদিন ধরে এক জটিল সমস্যা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে কার্যত একার হাতে পর্যুদস্ত করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেজরিওয়াল, অখিলেশ যাদব, হেমন্ত সোরেনদের পাশাপাশি সেই সময় আরজেডি প্রধান লালুপ্রসাদও বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ের প্রধান মুখ হিসেবে তৃণমূলনেত্রীর কথাই বলেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে আবার এই নিয়ে নানারকম মতপার্থক্য দেখা দিলে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে এই শিবির নির্দিষ্ট কাউকে তাদের নেতা হিসেবে তুলে ধরতে পারেনি। পরে অবশ্য নির্বাচনের ঠিক আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই দিল্লিতে ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠকে যোগ দিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে জোটের প্রধানমন্ত্রী মুখ হিসেবে সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন।
এদিন রাহুলকেই বিরোধী জোটের নেতা হিসেবে তেজস্বীর ঘোষণা, বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাদের ‘মহাগঠবন্ধন’-এর রাজনৈতিক স্বার্থে বলা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। দেশের অন্যতম হাইভোল্টেজ এই নির্বাচন কার্যত বিজেপি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচ। বাংলা দখলে বিজেপির বহুদিনের স্বপ্ন সফল হবে, নাকি মমতা এবারও বিজেপির রথের চাকা বসিয়ে দিতে পারবেন, সেই দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ। ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচন এখনও অনেকটাই দেরি। তার আগে বহু রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হয়ে যাবে। বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি অন্যান্য রাজ্যে বিরোধী শিবির কেমন ফল করবে, তার ওপরেই নির্ভর করবে ইন্ডিয়া জোটের নেতা বা তাদের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে আদৌ কেউ উঠে আসবেন কিনা।
