এক অদ্ভুত রহস্যজনক মৃত্যু হল আরামবাগের বাসিন্দা রঘুনাথ বেরার (৪০)। ট্রেনে আলাপ হওয়া এক দম্পতির বাড়িতেই তাঁর মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। বিষ্ণুপুর শহরের মিলনশ্রীর একটি ভাড়াবাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তাঁর নিথর দেহ। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে শ্রীরামপুর যাওয়ার পথে ট্রেনে রঘুনাথবাবুর সঙ্গে পরিচয় হয় বিষ্ণুপুরের উজ্জ্বল রায় ও স্বাতী রায়ের। সেই থেকেই তাঁদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। কোনও অনুষ্ঠান বা কাজের সূত্রে বিষ্ণুপুর গেলে তিনি রায় দম্পতির বাড়িতে উঠতেন।
১৫ আগস্ট শুক্রবারও তিনি স্বাতী রায়দের বাড়িতে যান। পরিবারের তরফে জানা গেছে, রাতে মাংস-ভাত খাওয়ার পর হঠাৎই তাঁর শরীর খারাপ হতে থাকে। স্বাতী রায় বলেন, “রাতে খাবার খেয়ে অসুস্থ বোধ করছিলেন। বিশ্রামের জন্য শুয়ে পড়েন। ভোরে আমার স্বামী ডাকতে গিয়ে দেখেন শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে, মুখ দিয়ে গ্যাঁজলা বেরোচ্ছে। পাশে থাকা এক নার্সকে ডেকে আনলে তিনি পরীক্ষা করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা রঘুনাথবাবুকে মৃত ঘোষণা করেন।”
ঘটনার খবর আরামবাগে পৌঁছতেই শোকের ছায়া নেমে আসে বেরা পরিবারে। মৃতের দাদা রাহুল বেরা বলেন, “আমার ভাই একেবারেই সুস্থ ছিল। শুক্রবার রাত তিনটের সময় হোয়াটসঅ্যাপে আমাদের দোকানের মাল সরবরাহের তালিকাও পাঠিয়েছিল। হঠাৎ এমন কী হল, তা আমাদের কাছে বড় প্রশ্ন। আমরা আরামবাগ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। বিষ্ণুপুর থানাতেও অভিযোগ করব। ময়নাতদন্ত না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে না। তাই সেই রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছি।”
তাঁরা আরও জানান, পরিবারের অজান্তেই রঘুনাথবাবুর রায় পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল। তাই ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ আছে কি না, সেই নিয়েও সন্দেহ দানা বাঁধছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে বিষ্ণুপুর থানায় কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে,
“রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলা সম্ভব নয়।”
