রাজ্য বিধানসভায় পাশ হওয়া কোনও বিল রাজ্যপাল বছরের পর বছর আটকে রাখলে আদালত কি একেবারেই অসহায় থাকবে? এই গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় সরকারের যুক্তির প্রেক্ষিতে এই মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই-এর নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ।
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা যুক্তি দেন, রাজ্যপাল চাইলে কোনও বিল অনুমোদন না-ও দিতে পারেন, এর সমাধান রাজনৈতিক পরিসরে রয়েছে, বিচার বিভাগের হাতে নয়। তিনি বলেন, “সব সমস্যার সমাধান বিচার ব্যবস্থা করতে পারে না। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতেই এর সমাধান খুঁজতে হয়।”
এতেই প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি গাভাই। তিনি বলেন, “যদি কোনও সাংবিধানিক কর্তব্য রাজ্যপালের হাতে অর্পিত হয় এবং তিনি বছরের পর বছর তা আটকে রাখেন, তবে কি আদালত অসহায় হয়ে থাকবে ? সংবিধানের মৌলিক কাঠামো নষ্ট হয় এমন সংশোধনীও আমরা বাতিল করেছি। তাহলে সর্বোচ্চ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হলেও, যদি তিনি দায়িত্ব পালন না করেন, আদালত কি কিছুই করতে পারবে না?” তিনি আরও মন্তব্য করেন, “রাজ্যপাল তো আসলে কারও কাছেই দায়বদ্ধ নন।”
মেহতা পাল্টা বলেন, “রাজ্যপালের পদ সবথেকে অস্থায়ী, কারণ মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির কাছে বিষয়টি তুলতে পারেন। প্রয়োজনে রাজ্যপালকেও প্রত্যাহার করা যায়। তাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই ভরসা।”
গত এপ্রিল মাসে তামিলনাড়ু রাজ্য বনাম তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল,
•রাজ্যপাল কোনও বিলের বিষয়ে অনির্দিষ্টকাল নীরব থাকতে পারবেন না।
•যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে।
•সংবিধানীয় নীরবতার রক্ষাকবচকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থামানোর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
•রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রেও আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছিল, তিন মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে এবং বিলম্ব হলে কারণ জানাতে হবে।
এর পরেই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ১৪টি প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টে পাঠান, যাতে মূলত এই রায়ের সাংবিধানিক ব্যাখ্যা ও সীমারেখা নিয়ে স্পষ্টতা চাওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ গঠন করেন। তাঁর সঙ্গে বেঞ্চে রয়েছেন বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি পি এস নরসিমহা ও বিচারপতি অতুল এস চান্দুরকার। সাংবিধানিক বেঞ্চে রোজ শুনানি চলছে এই মামলার।
বুধবারও আদালত মন্তব্য করেছিল, যদি রাজ্যপাল কোনও বিলের অনুমোদন স্থায়ীভাবে আটকে রাখতে পারেন, তবে একটি নির্বাচিত সরকারকে এক অ-নির্বাচিত পদাধিকারীর হাতে ছেড়ে দেওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হবে।
বিচারপতি গাভাই প্রশ্ন তোলেন, “তাহলে কি আমরা রাজ্যপালকে সীমাহীন ক্ষমতা দিয়ে দিচ্ছি? গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার কি রাজ্যপালের খেয়ালখুশির ওপর নির্ভর করবে?” শুক্রবারও এই মামলার শুনানি চলবে শীর্ষ আদালতের সাংবিধানিক বেঞ্চে।

