বিহারের ভোটের তালিকা সংশোধনের কাজ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কড়া সমালোচনা করল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, বিহারে উদ্বেগে পড়া সাধারণ মানুষের পাশে নেই রাজনৈতিক দলগুলি যা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সম্প্রতি বিহারে শেষ হয়েছে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনীর কাজ। ১ অগাস্ট সংশোধিত খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হলে দেখা যায়, প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় উদ্বেগে মধ্যে রয়েছেন বহু মানুষ। বিষয়টি গড়িয়েছে সর্বোচ্চ আদালতেও।
সেই মামলার শুনানিতে নির্বাচন কমিশন শীর্ষ আদালতকে জানিয়েছে, বিহারে প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে বড় রাজনৈতিক দলগুলি কোনওরকম আপত্তি বা অভিযোগ করেনি। গোটা রাজ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র দুইটি অভিযোগ জমা পড়েছে। সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কমিশনের ওই বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই বিহারের ১২ টি বড় রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে কড়া মনোভাব ব্যক্ত করেছে আদালত। বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানিয়েছে, আমরা অবাক হচ্ছি রাজনৈতিক দলগুলির নিষ্ক্রিয়তা দেখে। সাধারণ মানুষ যেখানে প্রতিদিন নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সেখানে রাজনৈতিক দলগুলি চোখ বুজে রয়েছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের এই দূরত্ব কেন? প্রতিটি ভোটারের পাশে দাঁড়ানো তো রাজনৈতিক দলগুলির দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।
তবে শীর্ষ আদালত শুক্রবার শুধু বিহারের ১২টি রাজনৈতিক দলের সমালোচনাতেই থামেনি। রাজ্যের ১২টি রাজনৈতিক দলকে এই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
শীর্ষ আদালত তার নির্দেশে বলেছে, সাধারণ মানুষ যাতে তাঁদের অভিযোগ যথাযথ জায়গায় জানাতে পারেন তার জন্য প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে সক্রিয় হতে হবে। বিপাকে পড়া মানুষকে সাহায্যের জন্য দলীয় কর্মীদের নিয়োগ করতে হবে। কমিশন যে ১১টি নথির কথা বলেছে সেগুলি বা আধার কার্ড ব্যবহার করে মানুষ যাতে তাঁদের অভিযোগ জানাতে পারেন সে বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করতে হবে রাজনৈতিক দলগুলিকে। কারণ সাধারন মানুষকে সহযোগিতা করা তাদের দায়িত্ব।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে সুপ্রিম কোর্টের এই মন্তব্য নিশ্চিতভাবেই রাজনৈতিক দলগুলির কাছে এক চ্যালেঞ্জ।
এদিনের নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, প্রকৃত ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার যাতে বজায় থাকে তা দেখার দায়িত্ব শুধু নির্বাচন কমিশনের নয়, রাজনৈতিক দলগুলির রয়েছে।
