গত ২৪ জুলাই প্রয়াত হয়েছেন WWE তারকা হাল্ক হোগান। তাঁর মৃত্যুর প্রায় এক মাস পর সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সম্প্রতি একটি সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই মৃত্যু ঘটেছে WWE কিংবদন্তির। হাল্কের মৃত্যুর সময় যে থেরাপিস্ট উপস্থিত ছিলেন তিনিই সামনে এনেছেন এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
গত ২৪ জুলাই ফ্লোরিডায় নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হাল্ক হোগান। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। উক্ত থেরাপিস্টের দাবির সত্যতা যাচাই করা না গেলেও পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত্যুর সময় হাল্ক হোগানের পাশেই উপস্থিত ছিলেন একজন থেরাপিস্ট। তদন্তকারীদের তিনি জানিয়েছেন, সম্প্রতি একটি অস্ত্রোপচারের সময় হোগানের ফ্রেনিক নার্ভ বিচ্ছিন্ন করেছিলেন সার্জন। আর তার জেরেই মৃত্যু ঘটেছে WWE কিংবদন্তির।
এ দিকে হাল্কের শরীরের ঠিক কোন জায়গায় অস্ত্রোপচার হয়েছিল তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। হৃদপিণ্ডের অস্ত্রোপচার নাকি ঘাড়ের অস্ত্রোপচার তা স্পষ্ট নয় এখনও। তবে হাল্ক হোগানের স্ত্রী স্কাইও উক্ত থেরাপিস্টের দাবিতে কার্যত সায় দিয়ে জানিয়েছেন যে, অস্ত্রোপচারের সময় সত্যি সত্যিই হাল্কের ফ্রেনিক স্নায়ু ‘সংকুচিত’ হয়ে গিয়েছিল। শ্বাস-প্রশ্বাসে সাহায্য করার ক্ষেত্রে যে স্নায়ুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের ব্যাখ্যা অনুসারে, ফ্রেনিক নার্ভ ডায়াফ্রামকে সংকুচিত করার জন্য সংকেত পাঠায়। যা ফুসফুসকে প্রসারিত করার এবং বাতাস গ্রহণ করার জন্য আরও জায়গা দেয়। এর পর স্নায়ু ডায়াফ্রামকে শিথিল করে। যা ফুসফুসকে বাতাস ঠেলে বা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে প্রাথমিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনে। এ দিকে উক্ত প্রতিবেদনে এও দাবি করা হয়েছে যে, মৃত্যুর পূর্বে বুকে কোনও রকম ব্যথা অনুভব করেননি হাল্ক।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হাল্কের মৃত্যুর পর তাঁর মেয়ে ব্রুকই ময়নাতদন্তের কথা বলেছিলেন। যা শেষ পর্যন্ত করা হলেও ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে এখনও কিছু জানা যায়নি। তবে পুলিশের তরফে এক বিবৃতিতে সম্প্রতি জানানো হয়েছে, “আমরা হাল্কের ছেলে নিক এবং মেয়ে ব্রুকসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। এই মামলায় একাধিক সাক্ষীকে জেরা করতে হয়েছে আমাদের। আর সেই সঙ্গে বিভিন্ন সরবরাহকারীর কাছ থেকে মেডিকেল রেকর্ডও চাইতে হয়েছে। এই কাজগুলি আমাদের গোয়েন্দারা চালিয়ে যাচ্ছেন।”
