অবহেলা আর অনাদরে পড়ে রয়েছে মহারাজা নন্দকুমারের ফাঁসির মঞ্চ। বিদ্যাসাগর সেতুর কাছে হেস্টিংস মোড়ে ঐতিহাসিক স্থানটির চারপাশে আবর্জনার স্তূপ। অথচ ব্রিটিশ শাসনকালে নবাবি আমলের বাংলার দেওয়ান, মাহারাজা নন্দকুমারের ফাঁসি হয়েছিল এই জায়গায়।
ইতিহাসবিদদের অভিমত, তখনকার গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংসের চক্রান্তের শিকার হয়েছেন তিনি। ইংরেজ আমলে প্রথম ভারতীয় হিসেবে নন্দকুমারকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছিল। দ্বিতীয় হুগলি সেতুর কাছে সেই ঐতিহাসিক ফাঁসিমঞ্চটিকে এবার হেরিটেজ তকমা দেওয়ার তোড়জোড় কলকাতা পুরসভার। সেনার ছাড়পত্র এবং আইনি জটিলতা কাটলেই শুরু হবে সংস্কারের যাবতীয় কর্মকাণ্ড।
১৭৭৫ সালের ৫ আগস্ট ফাঁসি হয়েছিল মহারাজা নন্দকুমারের। ২০২৫ সালে পূর্ণ হয়েছে ফাঁসির ২৫০ বছর। স্বভাবতই ঐতিহাসিক মঞ্চটি এখনও অবহেলিত থাকায় প্রশ্ন উঠছে।
কলকাতা পুরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের বক্তব্য, হেরিটেজ তকমা দেওয়ার জন্য “হার্ড এভিডেন্স” প্রয়োজন। আইনি জটিলতা কাটাতে যা জরুরি। তাই আদালতের ছাড়পত্র পেলেই হেরিটেজ সাইট হিসেবে তুলে ধরার কাজ শুরু হবে।
মহানগরীর হেস্টিংস মোড়ের মহারাজা নন্দকুমারের ফাঁসির মঞ্চই শুধু নয়, কৈলাস বোস স্ট্রিটে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বাড়িটিও হেরিটেজ তকমা পায়নি। এটিও শুধুমাত্র উপযুক্ত প্রমাণ (কংক্রিট এভিডেন্স) দাখিলের অপেক্ষায়। ১৮৫৬ সালে কৈলাস বোস স্ট্রিটের বাড়িটিতে প্রথম হিন্দু বিধবা বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
কলকাতা পুরসভার হেরিটেজ কমিটির আধিকারিকরা এখন তাকিয়ে কার্ল মার্কস সরণির মাইকেল মধুসূদনের পৈতৃক বাড়ি ঘিরে মামলার দিকে। কলকাতা হাইকোর্ট সেখানে কী কী এভিডেন্সের ভিত্তিতে রায় দেয় তা দেখেই স্থির হবে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ।
