যে সমস্ত মন্ত্রী জেলে যাবেন সে মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী যেই হোন না কেন তাঁরা আর কোনওভাবেই পদে থাকতে পারবেন না। বিহারে এক জনসভায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে পাশে বসিয়ে একথাই বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সংবিধানের ১৩০ তম সংশোধনী বিল নিয়ে এই প্রথম প্রকাশ্যে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী।
ভোটমুখী বিহারে শুক্রবার ফের দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার ডাক দেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভায় প্রধানমন্ত্রী কার্যত কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদবকে এক সারিতে রেখে কটাক্ষ করেন।
মোদি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কারও ছাড় পাওয়ার কথা নয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন সরকারি কর্মী দুর্নীতির অভিযোগে যদি ৫০ ঘণ্টার জন্য গ্রেফতার হন তাহলে আপনা আপনি তাকে সাসপেন্ড হতে হয়। তাহলে একজন দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রী কেন ছাড় পাবেন?
প্রধানমন্ত্রী জনসভায় উপস্থিত জনতাকে প্রশ্ন করেন, কোনও সরকারি অফিসার যদি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন তবে তাকে চাকরি খোয়াতে হয়। তাহলে একজন মুখ্যমন্ত্রী কেন জেলে বসেও ক্ষমতা ভোগ করবেন? আমরা দেখেছি একজন মুখ্যমন্ত্রী জেলের ভিতর বসেই সরকারি ফাইলে সই করছেন। এটা যদি হতে পারে তাহলে আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ব কিভাবে? সংবিধানের ১৩০ তম সংশোধনীতে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্য মন্ত্রীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই আইন দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইটা অনেক সহজ করবে। কারণ দুর্নীতির অভিযোগে ধৃতদের ৩০ দিনের মধ্যে জামিন নিতে হবে, না হলে ৩১ তম দিনের মাথায় তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হবে। এই প্রসঙ্গে মোদি বলেন, আরজেডি, কংগ্রেস এবং আরও কয়েকটি দল এই আইনের বিরোধিতা করছে। আসলে তারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। সে কারণেই তারা ভয় পাচ্ছে।
উল্লেখ্য, লোকসভায় ১৩০ তম সংশোধনী বিল পেশ করার পর বিলটি পর্যালোচনার জন্য যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
