ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মননে গেঁথে গিয়েছে ঘরের মাটিতে ২০১১ সালের বিশ্বকাপ জয়। মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনাল জিতেছিল টিম ইন্ডিয়া। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ২৭৫ তাড়া করতে নেমে ৬ উইকেটের জয় আসে ১০ বল বাকি থাকতেই। উল্লেখযোগ্যভাবে সে দিন দল যখন ১১৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কার্যত ধুঁকছে, তখন যুবরাজ সিংয়ের আগে ৫ নম্বরে ব্যাট করতে নেমেছিলেন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। তারপর ৭৯ বলে অপরাজিত ৯১ রানের এক অবিস্মরণীয় ইনিংস খেলে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপ এনে দেন দেশকে।
কেন সেদিন ফর্মে থাকা যুবরাজের আগে ক্রিজে গিয়েছিলেন ধোনি? আরও একবার তারই ব্যখ্যা দিলেন ‘ক্রিকেটের ঈশ্বর’ শচীন রমেশ তেন্ডুলকর। ২০১১ বিশ্বকাপের সময় মারণ কর্কটরোগ বাসা বেঁধেছিল যুবির শরীরে। তাই নিয়েই টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হন তিনি। গোটা বিশ্বকাপজুড়ে ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত ছিলেন ‘পাঞ্জাব কা পুত্তর’। তবু এরপরেও যে তাঁর পরিবর্তে অধিনায়ক ধোনি ব্যাট করতে নেমেছিলেন তার নেপথ্যে ছিলেন স্বয়ং শচীনই। যা তিনি নিজে কখনও স্বীকার না করলেও একাধিকবার বলতে শোনা গিয়েছে সেই বিশ্বকাপজয়ী দলের আরেক সদস্য বীরেন্দ্র শেহবাগকে।
তবে এ বার প্রশ্ন রাখা হয়েছিল সরাসরি মাস্টার ব্লাস্টারের কাছেই। একটি নামী ওয়েবসাইটে এক লাইভ সেশন চলাকালীন জনৈক নেটিজেন শচীনকে জিজ্ঞাসা করেন, “বীরু জানিয়েছিলেন যে ২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনালে যুবরাজের আগে ধোনিকে ব্যাট করতে পাঠানোর পরিকল্পনাটি আপনার ছিল। এটা কি সত্য? আর এই কৌশলগত পরিবর্তনের কারণ কী ছিল?” জবাবে অবশ্য সরাসরি কিছু জানাননি ১০০ শতরানের মালিক।
ক্যাপ্টেন কুলকে যুবরাজের আগে ব্যাট করতে পাঠানোর সিদ্ধান্তটি তাঁর ছিল কি না সে প্রসঙ্গ সযত্নে এড়িয়ে গিয়েছেন শচীন। তবে বলেন, “ধোনিকে উপরে তুলে ধরার পিছনে দুটি কারণ ছিল। শ্রীলঙ্কা দলে দুজন অফস্পিনার ছিলেন। মুথাইয়া মুরলিধরন এবং সুরজ রণদীভ। তাই তাঁদের নিষ্ক্রিয় করতে ক্রিজে ডানহাতি এবং বাঁহাতি ব্যাটারের কম্বিনেশন বজায় রাখাটা জরুরি ছিল। তা ছাড়া মুরলিধরনও চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে ৩ বছর (২০০৮-১০) খেলেছেন। এই সময় এম এস তাঁকে নেটে খেলেছে।”
সরাসরি জবাব না দিলেও শচীনের মন্তব্য থেকেই পরিষ্কার, ধোনিকে আগে ব্যাট করতে পাঠানোর সিদ্ধান্তটি কার ছিল এবং কেন ছিল। মূলত মুরলিকে নেটে খেলার পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণেই যুবরাজের আগে ক্রিজে যান থালা। সেই পরিকল্পনাই যে সে বার সোনা ফলিয়েছিল তা অবশ্য বলাই বাহুল্য। সারা টুর্নামেন্টে রান না পাওয়া ধোনি সে দিনই খেলে ফেলেছিলেন কেরিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস। সেই সুবাদে দেশের দ্বিতীয় অধিনায়ক হিসেবে ওডিআই বিশ্বকাপ জেতার পাশাপাশি ফাইনালের ম্যান অব দ্য ম্যাচও নির্বাচিত হন।
