ভারতীয় ক্রিকেটারদের ফিটনেস বৃদ্ধি করতে রাগবির ধাঁচে ব্রঙ্কো টেস্ট চালু হতে চলেছে, এ খবর সামনে এসেছিল কিছুদিন আগেই। এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ব্রঙ্কো টেস্টের ভাবনা গত জুন মাসে দায়িত্ব নেওয়া স্ট্রেনথ এবং কন্ডিশনিং কোচ আদ্রিয়ান লে রু’র মস্তিষ্কপ্রসূত। যা পছন্দ হয় খোদ গুরু গম্ভীরেরও। এরই মাঝে ব্রঙ্কো টেস্ট নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি।
তাঁর দাবি, রোহিত শর্মাকে ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে ওডিআই দল থেকে বাদ দিতেই চালু করা হয়েছে এই বিশেষ ধরণের ফিটনেস টেস্ট।
আগামী ২০২৭ সালে আফ্রিকা মহাদেশে বসতে চলেছে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের আসর। যে বিশ্বকাপ খেলতে মুখিয়ে রয়েছেন বিরাট কোহলি এবং অধিনায়ক রোহিত শর্মা। তাঁর হঠাৎ করে ব্রঙ্কো টেস্ট চালু প্রসঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে মনোজ বলেন, “আমার মনে হয় ২০২৭ বিশ্বকাপের পরিকল্পনা থেকে বিরাট কোহলিকে বাদ দেওয়া কঠিন। কিন্তু আমার সন্দেহ আছে, টিম ম্যানেজমেন্ট রোহিত শর্মাকে এই পরিকল্পনায় রাখবে কি না। কারণ আমি বিশ্বাস করি, এই ব্রঙ্কো টেস্ট যা দিনকয়েক আগে চালু করা হয়েছে, সেটা রোহিত শর্মার মত খেলোয়াড়দের জন্যই। আমার বিশ্বাস, তারা যাতে ভবিষ্যতে দলের অংশ হতে চান না সেটা নিশ্চিত করতেই এটি চালু করা হয়েছে।”
ফিটনেসের জন্য এতদিন ইয়ো ইয়ো টেস্টের ওপরই নির্ভর করে এসেছে ভারতীয় ক্রিকেট। এই ইয়ো ইয়ো টেস্টে পাশ করতে না পারায় শেষ হয়ে গিয়েছে অনেক ক্রিকেটারেরই কেরিয়ার। এমনকি এই তালিকায় দু-একজন তারকাও রয়েছেন। তবে ব্রঙ্কো টেস্টের বিষয়টি পুরোপুরি আলাদা। এই টেস্ট দিতে সাধারণত দেখা যায় রাগবি খেলোয়াড়দের। ব্রঙ্কো টেস্টে প্রথমে ২০ মিটার দৌড়ে আবার স্টার্টিং পয়েন্টে ফিরে আসতে হয়। এর পর ৪০ মিটার দৌড়ে ফেরত আসতে হয়। তার পর আবার ৬০ মিটার দৌড়ে ফিরতে হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি হল একটি সেট। এ ভাবে এক বারে মোট পাঁচটি সেট সম্পূর্ণ করতে একজন ক্রীড়াবিদকে মোট ১,২০০ মিটার দৌড়তে হয়।
জানা গিয়েছে, দলের স্ট্রেনথ এবং কন্ডিশনিং কোচ আদ্রিয়ান লে রু মনে করেন যে ক্রিকেটারদের জিমে বেশিক্ষণ কাটানোর প্রয়োজন নেই। তার চেয়ে তাঁরা যদি বেশি করে দৌড়ঝাঁপ করেন সেটাই লাভদায়ক হবে। হেড কোচ গৌতম গম্ভীরও এই বিষয়ে এক মত বলে জানিয়েছিল উক্ত রিপোর্ট। ফলে যৌথভাবেই দলে ব্রঙ্কো টেস্টের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর ঠিক এখানেই সিঁদুরে মেঘ দেখতে পাচ্ছেন মনোজ।
বাংলার প্রাক্তন অধিনায়ক প্রশ্ন তুলেছেন, “আপনি জানেন, ব্রঙ্কো টেস্ট হবে ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে কঠিন ফিটনেস পরীক্ষার প্যারামিটারগুলির মধ্যে একটি। কিন্তু প্রশ্ন হল, এখন কেন? আপনার নতুন হেড কোচ যখন প্রথমবার দায়িত্ব নিয়েছিলেন, সেই সিরিজেই কেন চালু করা হল না এই টেস্ট?”
শোনা যাচ্ছে, ভারতীয় ক্রিকেটারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৫ মিনিটের মধ্যে এই পাঁচটি সেট সম্পূর্ণ করতে। দলের এক সূত্র সম্প্রতি জানিয়েছেন, বিসিসিআইয়ের সঙ্গে বার্ষিক চুক্তিতে থাকা বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার ইতিমধ্যেই বেঙ্গালুরুতে ব্রঙ্কো টেস্ট দিয়েছেন। মনোজ সে প্রসঙ্গে বলেন, “এই টেস্ট আসলে কার মস্তিষ্কপ্রসূত? কে এটি চালু করেছিলেন? এটি এমন একটি প্রশ্ন যার উত্তর আমার কাছে নেই। তবে এটা বুঝতে পারছি যে, রোহিত শর্মা যদি সত্যিই নিজের ফিটনেস নিয়ে কঠোর পরিশ্রম না করেন তবে এটি তাঁর জন্য কঠিন হতে চলেছে। আমি মনে করি, ব্রঙ্কো টেস্টের মাধ্যমেই তাঁকে থামানো হবে।”
