এবার এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশনে ভিড় সামলাতে বড়সড় উদ্যোগ নিচ্ছে কলকাতা মেট্রো রেলওয়ে। পুরনো ব্লু লাইন (উত্তর-দক্ষিণ করিডর) স্টেশনকে নতুন এসপ্ল্যানেড স্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত করতে একটি ভূগর্ভস্থ সাবওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে। এর ফলে যাত্রীরা সহজে এক লাইন থেকে আরেক লাইনে যাতায়াত করতে পারবে, ভিড়ভাট্টা কম হবে।
মেট্রো রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার পি উদয় কুমার রেড্ডি বুধবার জানান, ব্লু লাইনের এসপ্ল্যানেড স্টেশনে যাত্রীসংখ্যা দ্রুত বেড়ে চলেছে। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো বা গ্রিন লাইন সম্পূর্ণ চালু হওয়ার পর থেকে যাত্রীদের চাপ বহুগুণে বেড়েছে। আগামী দিনে পার্পল লাইন (জোকা–এসপ্ল্যানেড করিডর) চালু হলে এই স্টেশনটি তিনটি মেট্রো করিডরের মিলনকেন্দ্র হয়ে উঠবে। অথচ ৪১ বছর আগে তৈরি হওয়া এই স্টেশনটি এত বিপুল ভিড় সামলাতে পারবে কি না, তার যথাযথ নকশা করা হয়নি। তাই যাত্রী চলাচলের চাপ সামলাতে বিশেষজ্ঞদের থেকে পরামর্শ নেওয়া হবে।
মেট্রো রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার বলেন, “আমরা চাই ব্লু লাইনের এসপ্ল্যানেড স্টেশনে যাত্রী চলাচল আরও মসৃণ হোক। তাই নতুন করে ভূগর্ভস্থ সাবওয়ে নির্মাণ করা সম্ভব কি না কনসালট্যান্টরা খতিয়ে দেখবেন।” তাঁর মতে, ব্লু লাইন ও গ্রিন লাইনের মধ্যে ইতিমধ্যেই একটি সাবওয়ে আছে, তবে যাত্রীদের ভিড় সামলাতে আরেকটি সাবওয়ে প্রয়োজন। নতুন টানেলের নির্দিষ্ট জায়গা ও নকশা নির্ধারণ করবেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে ব্লু লাইন দক্ষিণেশ্বর থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত ৩১ কিমি বিস্তৃত। এর মধ্যে এসপ্ল্যানেড স্টেশনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়। এখন গ্রিন লাইন চালু হওয়ার পর থেকে হাওড়া ও শিয়ালদহের মতো ব্যস্ত রেলস্টেশন থেকে বহু যাত্রী এসপ্ল্যানেডে নেমে অন্য লাইনে যাতায়াত করছেন। এর ফলে টিকিট কাউন্টারের অভাব দেখা দিয়েছে। তাই অতিরিক্ত টিকিট ভেন্ডিং মেশিন বসানোর পরিকল্পনা করেছে কর্তৃপক্ষ।
যাত্রীদের নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৬০ জন আরপিএফ নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি, ব্লু লাইনে ২২টি নতুন সার্ভিস বাড়ানো হয়েছে এবং ব্যস্ত সময়ে ট্রেনের ব্যবধান ৬ মিনিট থেকে কমিয়ে ৫ মিনিট করা হয়েছে। তবুও, বিশেষত গ্রিন লাইন থেকে ব্লু লাইনে নামা যাত্রীরা হাওড়া, সল্টলেক বা বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার জন্য নামছেন বলে প্ল্যাটফর্ম ও কনকোর্সে ভিড়ের চাপ বেড়েই চলেছে।
এখন মেট্রো কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য হল, দ্রুত নতুন সাবওয়ে তৈরি করে যাত্রী চলাচলের পথ সুগম করা এবং স্টেশন এলাকায় ভিড়ের চাপ কমানো। বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট পাওয়ার পরই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
