ব্রিটেনে শিশুদের যৌন নিগ্রহের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি বড়সড় চক্র। এই চক্রের বেশিরভাগ সদস্যই পাকিস্তানি। সে দেশের কমপক্ষে ৮৫ টি জায়গায় এই চক্র সক্রিয় রয়েছে। সম্প্রতি ব্রিটিশ আইনসভার এক নির্দল সদস্যের করা ব্যক্তিগত তদন্তে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।এই ঘটনায় জড়িতরা প্রায় অধিকাংশই পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত বলে জানা গিয়েছে।
ব্রিটিশ আইনসভার নির্দল সদস্য রূপার্ট লো সম্প্রতি ব্রিটেনে শিশুদের যৌন নির্যাতন নিয়ে একটি তদন্ত চালান। সেই তদন্তেই ধরা পড়ে সে দেশে শিশুদের উপর যৌন নির্যাতন উদ্বেগজনক ভাবে বেড়েছে। আর এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে পাকিস্তানি ধর্ষণ চক্র। তদন্ত রিপোর্টে দাবি করা হয়, যে পরিমাণ শিশু নির্যাতন হয় বলে মনে করা হচ্ছে বাস্তবে তার থেকেও বহু গুণ বেশি ঘটে। এই ঘটনায় প্রশাসনের দিকেও আঙুল তুলেছেন রুপার্ট। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের গাফিলতির ফলেই দুষ্কৃতীদের সাহস আরও বেড়েছে। এক্স হ্যান্ডেলে এই তদন্তের কথা জানিয়েছেন স্বয়ং রুপার্ট।
এর আগে জুন মাসে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারও সরকারিভাবে একটি সমীক্ষা চালিয়েছিলেন। সেই তদন্তেও ধরা পড়ে শিশুদের উপর যৌন নিগ্রহের ঘটনা যথেষ্ট উদ্বেগজনক ভাবেই বেড়েছে এবং এর শিকড় অনেক গভীরে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন ধরেই এই কর্মকাণ্ড চলে আসছে। এই তদন্তে ধরা পড়ে ১৯৬০ সাল থেকেই সে দেশে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলছে। বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলে এই তদন্ত কমিটি তাদের মতামত জানায়। ওই তদন্তে দেখা গিয়েছে, শিশুদের উপর যথেচ্ছ যৌন নির্যাতন চলে। মাদক পাচারেও শিশুদের কাজে লাগানো হয়।
সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া এই শিশুদের বয়স ১১ বছরেরও নীচে। এদের টার্গেট করে পুরুষদের নিয়ে গঠিত গ্রুপ বা গ্যাং। বিভিন্ন উপহার দিয়ে ভুলিয়ে ধরে নিয়ে এসে তাদের বিক্রি অথবা পাচার করে দেওয়া হয়। মুখ খুললে তাদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। পুলিশ ও প্রশাসনের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছে ওই কমিটি।
কমিটির দাবি, বহু ক্ষেত্রে পুলিসকে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও তারা উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়নি। সে কারণেই এই ধরনের দুষ্কৃতীদের সাহস আরও বেড়েছে।
রুপার্টও অভিযোগ করেছেন, পুলিস ও প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও তারা এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তেমন উৎসাহী নয়। সরকারের উচিত অবিলম্বে দেশ থেকে এই ধরনের অপরাধ চক্রকে নির্মূল করে দেওয়া।
