রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার প্রাক্তন গভর্নর উর্জিত প্যাটেলকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর পদে আগামী তিন বছরের জন্য নিয়োগের ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার। তিনি কে সুব্রহ্মণ্যম-এর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন এবং ভারতের পাশাপাশি প্রতিবেশী বাংলাদেশ, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিত্ব করবেন এই আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে।
উর্জিত প্যাটেলের এই নিয়োগ এক অর্থে তাঁর কর্মজীবনের শিকড়ে ফেরা হল। তিন দশকেরও বেশি আগে তিনি তাঁর পেশাজীবন শুরু করেছিলেন আইএমএফ–এই, ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কার ও রাজস্ব নীতির দিকনির্দেশ নিয়ে কাজ করে।
লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্স থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম ফিল এবং ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি শেষ করার পর প্যাটেল নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে ভারতীয় ডেস্কের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন আইএমএফ-এ। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়ার পর গোটা বিশ্বজুড়ে মুক্ত অর্থনীতি তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর হাত ধরে প্রবেশ করেছে ভারতের বাজারেও। বিশ্ব অর্থনীতির সেই সন্ধিক্ষণে তিনি ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরু করেন ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ডে।
তাঁর কর্মজীবনে তিনি সরকারি নীতি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাক্ষেত্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন। এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক-এ বিনিয়োগ কার্যক্রমের সহ-সভাপতি, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও আইডিএফসি-তে উচ্চপদস্থ দায়িত্ব, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পাবলিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড পলিসির চেয়ারম্যানশিপ এবং ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।
২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে উর্জিত প্যাটেল ভারতের ২৪তম আরবিআই গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন রঘুরাম রাজনের পর। তাঁর মেয়াদকালে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নীতি কাঠামো চালু করা এবং নোটবন্দির মতো বড় অর্থনৈতিক ঝড় সামলানো ছিল গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে, কেন্দ্রের সঙ্গে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের স্বাধীনতা ও উদ্বৃত্ত রিজার্ভ নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে তিনি মেয়াদ শেষের এক বছর আগেই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন।
বর্তমানে বিশ্ব-অর্থনীতি ঋণসংকট, অনিশ্চয়তা এবং মন্দার আশঙ্কার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এর ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একতরফা শুল্কনীতি গোটা বিশ্বেই বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলেছে। বিভিন্ন দেশের পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্কও রূপান্তরের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।
এইরকম একটা সময়ে উর্জিতের এই নিয়োগকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। অভিজ্ঞ কেন্দ্রীয় ব্যাংকার ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ হিসেবে উর্জিত প্যাটেল ভারতের কণ্ঠস্বরকে এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও জোরালো করে তুলবেন বলেই আশা করা হচ্ছে। অতীতে মতপার্থক্য হলেও তাঁর অভিজ্ঞতা ও কর্মকুশলতার ওপরেই ভরসা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
