উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে হঠাৎই ইস্তফা দিয়েছিলেন জগদীপ ধনখড়। ইস্তফা দেওয়ার পরও তিনি থাকছিলেন উপরাষ্ট্রপতির জন্য বরাদ্দ সরকারি বাসভবনে।কিন্তু ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই তাঁকে সেই বাংলো ছাড়তে হবে। কারণ ওই দিনই উপরাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন। নতুন উপরাষ্ট্রপতি সেই ঘরে প্রবেশ করবেন। প্রশ্ন হল, বাংলো ছাড়ার পর ধনখড় যাবেন কোথায়?
কারণ তাঁর জন্য যে বাংলোটি বরাদ্দ হয়েছে সেটি এখন এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দখলে।
নিয়ম হল, দু বছরের বেশি সময় উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর পর কেউ সরে দাঁড়ালে তাঁকে অবসরপ্রাপ্ত উপরাষ্ট্রপতির মতোই সমস্ত সুযোগ-সুবিধা দিতে হয়। তাই ধনখড়ের ‘টাইপ এইট’ বাংলো পাওয়ার কথা। প্রায় দেড় মাস আগে ইস্তফা দিলেও দীর্ঘদিন তিনি বাংলোর জন্য আবেদন করেননি। আবেদন করার পর তাঁকে লুটিয়েন্স দিল্লিতে ৩৪ নম্বর এপিজে আব্দুল কালাম মার্গের একটি টাইপ এইট বাংলো বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু সেই বাংলোয় বর্তমানে থাকেন এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ওই বাংলো তাঁকে ছাড়তে হবে।
কিন্তু ওই মন্ত্রী যদি অবিলম্বে বাড়ি ছাড়েন তাহলে সেটির সংস্কার প্রয়োজন। উপরাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ওই বাড়িতে সব ধরনের ব্যবস্থা করতে হবে। যা করতে কমপক্ষে তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে বলে অনুমান। অর্থাৎ ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোনওভাবেই ওই বাড়িতে প্রবেশ করতে পারবেন না ধনখড়। তাই তাঁকে আগামী তিন চার মাস কোন ছোট সরকারি বাংলোয় বা ভাড়া বাড়িতে থাকতে হবে।
এরই মধ্যে ধনখড়ের ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি কোনও ছোট সরকারি বাংলোয় যেতে রাজি নন। সেকারণে যতদিন না তাঁর জন্য বরাদ্দ বাংলো প্রস্তুত হচ্ছে ততদিন তিনি দিল্লির ছাত্তারপুরে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকবেন। যদি শেষ পর্যন্ত তাই হয়, তবে বলা যেতে পারে সেটি এক বিরল ঘটনা। কারণ এর আগে কোনও উপরাষ্ট্রপতিকে ভাড়া বাড়িতে থাকতে হয়নি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই ঘটনার পিছনে রাজনীতি দেখছে। যদিও কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, পুরোটাই পদ্ধতিগত জটিলতা। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।
তবে উপরাষ্ট্রপতি পদে ইস্তফা দেওয়ার পর ধনখড়ের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্কটা একেবারেই তলানিতে এসে ঠেকেছে। ধনখড় একজন প্রাক্তন বিধায়ক, প্রাক্তন সাংসদ, প্রাক্তন রাজ্যপাল, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি। ধনখড় রাজস্থান থেকে বিধায়ক হয়েছিলেন কংগ্রেসের টিকিটে। সম্প্রতি ধনখড় তাঁর পেনশনের জন্য আবেদন করেছেন একজন বিধায়ক হিসেবেই। রাজনৈতিক দিক থেকে যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
