আশা করা হয়েছিল স্বেচ্ছাচারী বলে অভিযুক্ত শেখ হাসিনার পতনে বদলে যাবে বাংলাদেশ। ভাবা হয়েছিল ফিরবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, শেষ হবে বিনা বিচারে আটক হওয়ার দিন। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে থাকা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যে রাজনীতিক, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের গ্রেফতারের ঘটনা বাড়ছে তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পেন বাংলাদেশ। সংস্থাটি জানিয়েছে, যদি অভিযুক্ত ব্যক্তির অপরাধমূলক কাজের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ আদালতে পেশ করা না হয় তবে অবিলম্বে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দিতে হবে।
হাসিনা জমানার পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের পাশাপাশি বেড়েছে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী, ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সন্ত্রাসবিরোধী আইনের প্রয়োগ। কদিন আগেই বিশিষ্ট সাংবাদিক, মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী বিভুরঞ্জন সরকারের নির্মম অস্বাভাবিক মৃত্যুতে শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বিবৃতিতে তাঁরা জানান, বাংলাদেশের সব স্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী শিক্ষক, সাংবাদিকের কাছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের এরকম ব্যবহার চরম উদ্বেগজনক ও লজ্জাজনক পরিস্থিতির বার্তা দেয়।
আবার বৃহস্পতিবার মঞ্চ ’৭১ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অংশ নেওয়ার পর প্রাক্তন মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান এবং সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নাসহ মোট ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পেন বাংলাদেশের তরফে বলা হয়েছে, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ওই অনুষ্ঠানে হামলা এবং পরে গ্রেফতারের ঘটনা দেশে ভয়ের সংস্কৃতির উদ্বেগজনক ইঙ্গিত বয়ে আনছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় পেন বাংলাদেশ জোর দিয়ে বলছে যে সাংবিধানিক অধিকারকে অপরাধ হিসেবে দেখানো যায় না।
