বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ ও বৃহত্তম অর্থনীতির অধিকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাপাদাপিতে এখন শঙ্কিত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। এমন পরিস্থিতিতেই আরও কাছাকাছি আসতে চলেছে দুই বৃহৎ অর্থনীতি ভারত ও চিন। চিনের তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বৈঠকে মোদি বলেন, ভারত-চিন সম্পর্ককে পারস্পরিক বিশ্বাস, শ্রদ্ধা ও সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী জানান, আমাদের সহযোগিতা ২.৮ বিলিয়ন মানুষের স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত।
২০২০ গালওয়ান সংঘর্ষের পর থেকে ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রথম উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনৈতিক শুল্ক নীতি আরও কাছাকাছি এনেছে দিল্লি ও বেজিংকে। মোদি বলেন, “গত বছর কাজানে আমাদের খুব ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছিল, যা আমাদের সম্পর্কের জন্য খুবই ইতিবাচক। সীমান্তে বিচ্ছিন্নতার পরে, একটি শান্তি এবং স্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।”
পাশাপাশি চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠকে বলেন, ভারত ও চিনের বন্ধু ও সুসম্পর্কযুক্ত প্রতিবেশী হওয়া জরুরি। তিনি বলেন, “বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব উন্নয়নশীল দেশগুলির ঐক্য, পুনর্জাগরণ এবং মানবসমাজের অগ্রগতি নিশ্চিত করা। দুই দেশের ড্রাগন ও হাতির একসঙ্গে এগিয়ে চলাই সঠিক পথ।” চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং-ই সম্প্রতি ভারত সফরে এসে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানেও দুদেশের মধ্যে স্থিতিশীলতা ও আগামী দিনের সম্পর্কের ওপর জোর দেওয়া হয়।
এবার চিনের আয়োজনে এসসিও প্লাস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন ২০ জন বিদেশি নেতা। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও উপস্থিত থাকছেন। ২০০১ সালে গঠনের পর এটাই হচ্ছে এই জোটের সবচেয়ে বড় সম্মেলন। ভারত, চিন, রাশিয়া ছাড়াও এই সংগঠনে রয়েছে ইরান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান এবং বেলারুশ।
