ঠিক কী কারণে রাজস্থান রয়্যালসের হেড কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন রাহুল দ্রাবিড়? শনিবার রয়্যালস ফ্র্যাঞ্চাইজির তরফে জানানো হয়েছে, আরও বড় ভূমিকার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যান করে হেড কোচের পদ থেকে ইস্তফা দিতে চলেছেন টিম ইন্ডিয়ার বিশ্বজয়ী কোচ। এ দিকে এর পরই সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের মত, রাজস্থান রয়্যালসের নেতৃত্ব নিয়ে যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে তা মনঃপূত হয়নি বলেই অব্যাহতি নিয়েছেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল।
আইপিএলে গত ২০১১ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত রাজস্থান রয়্যালসের নেতৃত্বে দেখা গিয়েছিল দ্রাবিড়কে। এর পর খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আরও দু’বছর দলটিতে পরামর্শদাতার ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। শনিবার একটি বিবৃতিতে সেই দ্রাবিড়ের সরে দাঁড়ানোর খবরই সামনে এনেছে রাজস্থান রয়্যালস। প্রেস বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয় যে, কাঠামোগত পর্যালোচনার অংশ হিসেবে রাহুলকে ফ্র্যাঞ্চাইজিতে আরও বৃহত্তর পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
সূত্রের দাবি, দ্রাবিড়কে আসলে এমন একটি পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যা দলের টেকনিক্যাল বিষয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলিতে তার ভূমিকা সীমিত করত। এক সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইপিএলে বেশ কয়েকটি দলের সঙ্গে কাজ করা ভারতের এক অতিপরিচিত কোচ এ বিষয়ে বলেন, “আপনি যদি কখনও কোনও আইপিএল দলের সঙ্গে কাজ করে থাকেন, তা হলে কেবল একটি বিষয় জেনে রাখুন। যখনই কোনও প্রধান কোচকে আরও বৃহত্তর ভূমিকার প্রস্তাব দেওয়া হয়, তখন এটি শাস্তিমূলক পদোন্নতির মতো। এর অর্থ হল, দল গঠনের প্রক্রিয়ায় আপনার কোনও ভূমিকা থাকবে না!”
অর্থাৎ রয়্যালস ফ্র্যাঞ্চাইজির তরফে দ্রাবিড়কে যে বৃহত্তর দায়িত্বের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, পদোন্নতির আড়ালে আসলে শাস্তি বলেই দাবি করছেন উক্ত কোচ। মনে করা হচ্ছে, এ বছর আইপিএলের মাঝপথেই সঞ্জু স্যামসনকে সরিয়ে রিয়ান পরাগকে অধিনায়ক করার ঘটনাটি থেকেই ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল কোচ দ্রাবিড়ের। সূত্র জানাচ্ছে, সঞ্জু স্যামসনকে সরিয়ে পরাগের হাতে ব্যাটন তুলে দেওয়ার বিষয়ে ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে দ্রাবিড় একমত ছিলেন কি না তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। যদিও দ্রাবিড়ের মতো একজন বিশ্বজয়ী কোচকে একটি মাত্র মরশুমের ব্যর্থতা দেখেই ফ্র্যাঞ্চাইজি সরিয়ে দেবে সেটিও বিশ্বাসযোগ্য নয়।
তাই দ্রাবিড়ের এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে বিপরীত ব্যাখ্যাটিই যুক্তিযুক্ত মনে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহলের। বিশেষ করে রাহুল দ্রাবিড়ের নির্বিবাদী ব্যক্তিত্ব। যিনি চিরকালই ‘বিতর্ক’, ‘ঝামেলা’, এ জাতীয় শব্দগুলির থেকে শতহস্ত দূরে থাকার চেষ্টা করেছেন। সেই মানুষটিকে খর্ব করার পরিকল্পনা হলে তাঁর নীরবে সরে দাঁড়ানোটাই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন কেউ কেউ। উল্লেখ্য, এ বারের আইপিএলে কয়েকটি ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া রিয়ান পরাগের পারফরম্যান্স ছিল নেহাতই সাদামাটা। স্ট্রাইক রেট ১৬৬ হলেও করেছেন মাত্র ৩৯৩ রান। একই সঙ্গে মুখ থুবড়ে পড়ে দলও।
রিয়ান পরাগ নেতৃত্ব পাওয়া সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে টেনে তুলতে পারেননি রাজস্থান রয়্যালসকে। লিগ টেবিলের নবম স্থানে থেকে শেষ করে তারা। এই পরিস্থিতিতে দ্রাবিড়কে ‘শাস্তিমূলক পদোন্নতি’ দেওয়া হলে সেটি তাঁর পক্ষে মেনে নেওয়া যে অসম্ভব তা বলাই বাহুল্য। এমনিতেই সঞ্জু স্যামসন ছাড়াও দলে রয়েছেন যশস্বী জয়সওয়াল কিংবা ধ্রুব জুরেলের মতো প্লেয়ার। যাঁরা নেতৃত্বের দাবিদার হিসেবে পরাগের থেকে একটু হলেও এগিয়ে বলে দাবি করা হয়। দ্য ওয়াল-ও কি তেমনটাই ভাবছেন না? সব মিলিয়ে দ্রাবিড়ের ইস্তফা প্রশ্ন রেখে গেল একাধিক।
