পশ্চিমবঙ্গ উর্দু অ্যাকাডেমির প্রস্তাবিত সাহিত্য অনুষ্ঠান (literary event) স্থগিত রাখাকে কেন্দ্র করে এখন জোর বিতর্ক। রফি আহমেদ কিদোয়াই রোডে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে চারদিনের সাহিত্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন খ্যাতনামা কবি ও গীতিকার জাভেদ আখতার। অভিযোগ, জমিয়তে উলেমা-ই-হিন্দ এবং ওয়াহিয়াহিন ফাউন্ডেশন সেই আমন্ত্রণের তীব্র বিরোধিতা করায় অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হয়। গোটা পর্বটি ঘিরেই সুর চড়িয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রী থেকে শুরু করে ‘বিদ্বসমাজ’-এর একাংশ।
‘হিন্দি সিনেমায় উর্দু’ (Urdu in Hindi Cinema) এই শিরোনামে আলোচনা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন ক্যাম্পাস উর্দু অ্যাকাডেমিতে। ৩১ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠানে আখতার সাহেবের আসার কথা ছিল ১ সেপ্টেম্বর সোমবার। অনুষ্ঠানে চিত্রনাট্যকার, গীতিকার এবং কবিই ছিলেন প্রধান অতিথি। উর্দু অ্যাকাডেমির পক্ষ থেকে অনেক আগেই সেই আমন্ত্রণপত্র পৌঁছেছিল জাভেদ আখতারের কাছে।
রাজ্য সরকারের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঘিরে আপত্তি তুলেছে দুই ইসলামপন্থী সংগঠন জমিয়তে উলেমা-ই-হিন্দ এবং ওয়াহিয়াহিন ফাউন্ডেশন। জাভেদ আখতারকে “ধর্ম ও ঈশ্বরের বিরুদ্ধে কথা বলা” ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে দুই সংগঠন। আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করা না হলে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। যদিও উর্দু অ্যাকাডেমি পক্ষ থেকে শুধুমাত্র জানানো হয়েছে যে “অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে” তাদের অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়েছে।
গোটা বিষয়টি ঘিরে সরব হয়েছেন মানবাধিকার কর্মী শবনম হাশমি। তাঁর বক্তব্য, ভারত হিন্দু রাষ্ট্র নয়, ইসলামিক দেশও নয় এবং জোর দিয়ে বলেছেন যে নাস্তিকদেরও স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার এবং কথা বলার অধিকার রয়েছে। কবি-লেখক গওহর রাজা মুসলিম মৌলবাদী সংগঠনগুলির নির্দেশে অনুষ্ঠান বাতিলের তীব্র নিন্দা করেছেন এবং এটিকে “গভীরভাবে বিরক্তিকর এবং অগ্রহণযোগ্য” বলে অভিহিত করেছেন।
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে গওহর রাজা লেখেন, এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করে যে, মৌলবাদীরা, তা সে হিন্দু হোক বা মুসলিম, যুক্তিবাদীদের কণ্ঠস্বরকে নীরব করতে সমানভাবে বদ্ধপরিকর। তিনি (জাভেদ আখতার) যুক্তিবাদীদের সবচেয়ে দৃঢ়, স্পষ্ট এবং সৃজনশীল কণ্ঠস্বরদের একজন, এবং সমগ্র জাতি সর্বদা তাঁর কথা শুনতে আগ্রহী”।
বামপন্থী নেতা ময়ূখ বিশ্বাস তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “উর্দু একাডেমি বাংলার করদাতাদের টাকায় চলে; এটি জমিয়ত মোল্লাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়”। জাভেদ আখতারের অনুষ্ঠান বাতিল ঘিরে কেউ কেউ তসলিমা নাসরিনের প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন। অভিযোগ করেছেন, মৌলবাদীদের কাছে মাথা নত করার জন্যেই বাংলাদেশি লেখিকাকে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল।
কেন্দ্রের ওয়াকফ আইনের বিরোধিতায় বাংলায় সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে। অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন সেভাবে পদক্ষেপই করেনি বলে অভিযোগ বিরোধীদের। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস শুধুমাত্র তাদের ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করছে না বলেও তোপ দেগেছেন পদ্মশিবিরের নেতারা। তাঁদের দাবি, উর্দু অ্যাকাডেমির অনুষ্ঠান বাতিল করা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের ইসলামপন্থী সংগঠনগুলির হুমকির কাছেই আত্মসমর্পণ।
