প্রতিদিনের ব্যবহার করা জিনিসপত্রে জিএসটি স্ল্যাব কমানো নিয়ে দিল্লিতে বুধবার থেকেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের নেতৃত্বে শুরু হল দুই দিনের জিএসটি কাউন্সিল বৈঠক। জিএসটির কর কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে এমন সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় প্রায় গোটা দেশের নজর রয়েছে এই বৈঠক ঘিরে। এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকার চারটি করের স্ল্যাব কমিয়ে দুটি করার জন্য একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে। যদি তা হয় তাহলে ২০১৭ সালে জিএসটি শুরুর পর এটি হবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। এর ফলে ব্যবসায় স্বচ্ছতা আসার পাশাপাশি সাধারণ মানুষও অনেক বিষয়ে স্বস্তি পাবেন।
এই দুটি স্ল্যাব কাঠামো ব্যাপারটা কী?
জিএসটি-তে বর্তমানে ৪টি স্ল্যাব রয়েছে। সেগুলি হল ৫ শতাংশ, ১২ শতাংশ, ১৮ শতাংশ ও ২৮ শতাংশ। কেন্দ্রের পরিকল্পনা, এই জিএসটি স্ল্যাবে পরিবর্তন এনে তা দুটি স্ল্যাবে ৫% ও ১৮% হারে ভাগ করা হবে। বলা হচ্ছে ৯০% পণ্য ২৮% থেকে নামবে ১৮%-এ, আর ১২%-এর অনেকটাই নামবে ৫%-এ। দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্য যাবে নিম্ন স্ল্যাবে। এতে মধ্যবিত্ত ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পাবেন।
সিন গুডস-এর উপর থাকবে ৪০% কর
তামাকজাত দ্রব্য, বিলাসবহুল গাড়ি ও মদ থাকবে ৪০% করের আওতায়। পাশাপাশি নতুন করে ‘হেলথ সেস’ ও ‘গ্রিন এনার্জি সেস’ আনা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি ইনসিওরেন্সে ছাড়ের প্রস্তাবও রয়েছে। জীবন ও স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়ামে বর্তমানে ১৮% জিএসটি রয়েছে। এবার তা মুক্ত করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেই জানা যাচ্ছে।
ট্রাম্প ট্যারিফ মোকাবিলায় ‘নেক্সট-জেন’ জিএসটি সংস্কার
ভারতের অর্থনীতির উপর এখন ট্রাম্প ট্যারিফের চাপ। সেই প্রভাবে আমেরিকার ৫০% শুল্কে ভারতের প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলারের রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জিএসটি সংস্কার তাতে আংশিক ভারসাম্য আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। ‘নেক্সট-জেন’ জিএসটি সংস্কারে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সম্ভাবনাও থাকছে। প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের জিডিপি ৭.৮% বৃদ্ধি পেয়েছে। কেন্দ্র মনে করছে, এই জিএসটি সংস্কার ও করছাড়ের ফলে ভোগ্যপণ্যে ব্যয় ৫.৩১ লাখ কোটি টাকা বাড়তে পারে।
