স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছিলেন, খুব শীঘ্রই বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসে জিএসটির হার কমতে চলেছে। কোন পণ্যে কী পরিমাণ জিএসটি ধার্য হবে তা নিয়ে আলোচনা করতে বুধবার বৈঠকে বসছে জিএসটি পরিষদ। ওই বৈঠকে পৌরোহিত্য করবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। উপস্থিত থাকবেন বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অর্থমন্ত্রীরা। বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসে নতুন করে কী পরিমাণ জিএসটি ধার্য হবে তা নিয়ে আলোচনা হবে বৈঠকে। যার মধ্যে জীবন বিমা ও স্বাস্থ্য বিমার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও রয়েছে। জানা গিয়েছে, জিএসটি পরিষদ চায়, করের দুটি হার ৫ ও ১৮ শতাংশ বজায় থাকুক। বর্তমানের ১২ ও ২৮ শতাংশ হার তুলে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি তামাক, অ্যালকোহল এবং অত্যন্ত বিলাসবহুল গাড়ির উপর ৪০ শতাংশ হারে জিএসটি আদায় করার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে ৪০ শতাংশ জিএসটির আওতায় পাঁচ থেকে সাতটির বেশি জিনিস থাকছে না। সরকার চাইছে, বর্তমানে যে সমস্ত পণ্যে ২৮ শতাংশ কর ধার্য করা হয় সেগুলি ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনতে। প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্যের উপরে কর কমাতে চাইছে সরকার। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসে বর্তমানে ১২ শতাংশ হারে কর আদায় করা হলেও তা ৫ শতাংশ বা শুল্কহীন করতে চাইছে সরকার। সরকারের লক্ষ্য হল, মানুষ যাতে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস আরও বেশি করে ব্যবহার করেন। তবে বিভিন্ন পণ্যে কর কমানোর কারণে সরকারের ৫০ হাজার কোটি টাকা রাজস্বের ক্ষতি হতে পারে বলে অনুমান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের উপর বিপুল পরিমাণ শুল্ক চাপিয়েছেন। যার জেরে আমেরিকায় পণ্য রফতানি যে ধাক্কা খাবে তা এক প্রকার নিশ্চিত। সেই ধাক্কা সামাল দিতেই জিএসটির হার কমানোর পরিকল্পনা বলে মনে করছে অর্থনীতিবিদরা।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেছেন, বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসে করের হার কমলে স্বস্তি পাবেন সাধারণ মানুষ। কর কমলে নিশ্চিতভাবেই প্রতিটি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমবে। ফলে সাধারণ মানুষের হাতে বাড়তি অর্থ থাকবে। যে অর্থ দিয়ে তারা নতুন কেনাকাটা করতে পারবেন। যা শিল্প সংস্থাগুলিকে তাদের উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করবে। উৎপাদন বাড়লে বাড়বে কর্মসংস্থান। তাতে গোটা দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।
তবে জিএসটির হার কমানোর এই সিদ্ধান্তে ইতিমধ্যেই অবিজেপি রাজ্যগুলি অশনি সঙ্কেত দেখছে। ঠারেঠোরে তারা বুঝিয়ে দিয়েছে, জিএসটির হার কমলে তাদের রাজস্বের পরিমাণও কমবে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রকে তাদের এই ক্ষতি পূরণ করতে হবে।
